
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ নিয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১০ জনে।
এ ছাড়া হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৪ জন। সেই হিসাবে হামে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে তিনজন, ঢাকায় দুইজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৯৮ জন। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৯৭ জন। ছাড়া চট্টগ্রামে ১০৩, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৬, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছে।
বুলেটিনে বলা হয়, এক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এক হাজার ১১০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে এক হাজার ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৫ জনের শরীরে। হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৫৬ জন, চট্টগ্রামে ১৮৯, সিলেটে ৯৪, বরিশালে ১১৫, খুলনায় ৬০, ময়মনসিংহ ৬৫, রাজশাহীতে ২২ ও রংপুরে ২৪ জন।
বুলেটিন অনুসারে, দেশে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। যার মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন। এ দিকে হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০। যার মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
সিলেটে মৃত্যু ২০০ ছুঁয়েছে
সিলেট ব্যুরো জানায়, একদিন মৃত্যুহীন থাকার পর সিলেট বিভাগে হামে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাম উপসর্গে তিন শিশু মারা যায়। এনিয়ে বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২০০ জনে। এই সময়ে নতুন কেউ হাম শনাক্ত না হলেও উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন আরো ৯৪ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৩২ জন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এক বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান সিলেটের বিয়ানীবাজার, ৯ মাস বয়সী জিসান আহমদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও তিন মাস ২৪ দিন বয়সী জায়ান হবিগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১৫ জনে রয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ৪৪২, হবিগঞ্জে ১৫৮, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৯৪ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৯, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩২, জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিক্যালে ৩, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৯ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৩২ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৬, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৭৯, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬, নর্থ ইস্টে ৫, পার্কভিউ মেডিক্যালে ২০, বিশ^নাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সিলেটে হাম ও উপসর্গে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৭৯, হবিগঞ্জে ২৮, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চার, হবিগঞ্জে চার, মৌলভীবাজারে একজন ও সুনামগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে সিলেটে ৮৩, হবিগঞ্জে ৩২, মৌলভীবাজারে ১৬ এবং সুনামগঞ্জে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন ভর্তি হয়েছিলেন ১৩২ জন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








