
ঢাবি প্রতিনিধি
বর্তমান সরকার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও ভারতের সাথে ‘সমঝোতা’ করে দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দলটি। কর্মসূচি সফল করতে শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করেছে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। পথসভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। একইসাথে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। তার অভিযোগ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এবং সাংবাদিকেরাও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে এক সাংবাদিককে গুলি করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবি তোলেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্য মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তার ভাষ্য, নির্বাচনের পরও এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ২০০ টাকা। এখন সরকারি হিসাবে তা এক হাজার ৮০০ টাকা। বেসরকারিভাবে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ পরিস্থিতিতে জনগণ নিজেদের অসহায় মনে করছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ বলেন, এনসিপি জনগণের পাশে আছে। সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে নাহিদ আরো বলেন, ‘একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে জনগণের সাথে প্রহসন করার জন্য।’ তিনি কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানব্যবস্থা চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী আনা যাবে না এবং কোনোভাবেই তা সংসদে পাস হতে দেয়া হবে না।
নতুন দায়িত্বে নাসীর, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে। পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে পুনর্বহাল আছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরে জাতীয় সম্মেলন করতে না পারলেও শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে পরিবর্তন এনেছে দলটি।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে দলের দফতর সেল সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে এসেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এর আগে মুখ্য সমন্বয়ক পদে আর হাসনাত আবদুল্লাহ শুরু থেকে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদ দেয়া হয়েছে।
এ দিকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন সামান্তা শারমিন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা সামান্তা শারমিন শুরুতে ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, এখন তিনি শুধুই যুগ্ম আহ্বায়ক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতের সাথে জোট করার কারণে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন তিনি।
এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার ও তারেক এ আদেল, এ. কে. ফ্লোরা।
যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস.এম. সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো: নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক, মো: আতাউল্লাহকে।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন। দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহ-দফতর সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখারুল ইসলাম।
আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারী ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ।
প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন। শিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন সাকিব শাহরিয়ার।
বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা
ঢাকা বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী। চট্টগ্রাম বিভাগ (দক্ষিণ)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ.এস.এম. সুজাউদ্দীন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাওয়াদুল করিম। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাকিব মাহাদী। চট্টগ্রাম বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম সৈকত।
তালিকা অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো: কামরুল ইসলাম দর্পণ। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিন ইরা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোল্যা রহমতুল্লাহ। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. শামীম হামিদী। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তানহা শান্তা। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুর রহমান অপু।
ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিভাগে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ।
নারীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহ-পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ-মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সহ-ধর্ম সম্পাদক হিসেবে সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।
সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে লুৎফর রহমান এবং সহসংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে মেহেরাব সিফাত দায়িত্ব পেয়েছেন। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাইয়েদ জামিল এবং সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে মাহবুব আলমের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ তানজিম। অন্য দিকে, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








