শুষ্কতা শুরু হলেও কমছে না ডেঙ্গু

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

শুষ্কতা শুরু হলেও কমছে না ডেঙ্গুর সংক্রমণ। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গেলে প্রচুর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীতে ঠাসা। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তরা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে থাকেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে মেডিসিনের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানান। দেশে ডেঙ্গুর সাথে বৃষ্টির একটি সম্পর্ক আছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশাদের প্রজনন বেড়ে যায়। শুষ্কতা শুরু হলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া ডেঙ্গুর প্রজনন কমে যায়। ফলে মশার সংখ্যা কমে গেলে সংক্রমণের সংখ্যাও কমে যায়। সে ক্ষেত্রে এ সময়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু কমছে না। এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ কমিয়ে আনতে হলে দেশের সর্বত্র কার্যকর মশক নিধন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। 
এখনো দৈনিক দেড় হাজার থেকে দুই হাজারের মতো মানুষ সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে দুই বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু রোগে। অপর দিকে একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের দুইজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি একজনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বাইরের হাসপাতালে। মৃত্যুর দিক থেকে কেবল অক্টোবর মাসের এ পর্যন্ত দেশে ১২৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। অন্য দিকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ১৪৮ জনের। এ ছাড়া চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেবল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেই ২৭৪ জনের মৃত্যু হলো। বাকি ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বছরের গত ৮ মাসে।
গতকাল দেশে যে এক হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে ৫২১ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাসপাতালসহ ঢাকার বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১১৬ জন এবং এই দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭৪ জন। 
গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০ জন। রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১৩ জন, রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৩৮ জন এবং সিলেট বিভাগের হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছে দুইজন।  
সারা দেশে ডেঙ্গুতে যে ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কেবল ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১৬৯ জনের। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১০৭ জন, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৪৮ জন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে খুলনা বিভাগে মারা গেছে ৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, রংপুর বিভাগে ৭ জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রামেক হাসপাতালে তরুণের মৃত্যু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: রাসেল (২৩) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়। তিনি কলেজছাত্র ছিলেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা: শেখ শামীম আহমেদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিলেটে আক্রান্ত ৭০০ ছাড়াল
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে থামছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০৪ জনে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫ জন।
শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন শনাক্ত ১১ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৫, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে শনাক্ত ৭০৪ জনের মধ্যে হবিগঞ্জে ৩০০, সুনামগঞ্জে ১৬১, সিলেটে ১৫০ এবং মৌলভীবাজারে ৬৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরো ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
এ দিকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে সিলেটে শনাক্ত হয়েছিলেন ৮ জন। চলতি বছর সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নেপাল চন্দ্র দাস (৫২) মারা যান। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যালে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা ছলিমা বেগম (৬০), ৮ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃষ্ণ দাস (৪৫) ও ২ আগস্ট সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে আফিয়া খানম (৫৪) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান।