কর্ণফুলী টানেলে যানবাহনের গতি বাড়ছে
কর্ণফুলী টানেলে যানবাহনের গতি বাড়ছে।

এসএম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

Advertisement

আসছে নভেম্বরেই বহুল প্রত্যাশিত চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালী কক্সবাজারের টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) ৫৮.২০কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং কর্ণফুলী টানেল সংযোগসড়কের কালাবিবির দিঘী থেকে চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত ২১.০৮কিলোমিটার উন্নীতকরণ প্রকল্প ।  এই প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ২৮ কিলোমিটার এবং সময় সাশ্রয় হবে ৪৫ মিনিট। সেই সাথে কর্ণফুলী টানেলে যানবাহনের গতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৬৪৬ কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। প্রকল্প দু’টির মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালী কক্সবাজারের টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) ৫৮.২০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পটি চলতি বছরের ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভায় অনুমোদন লাভ করে। নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ১৮৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বেধে দেয়া হয়েছে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত। প্রকল্পে চট্টগ্রাম অংশে রয়েছে ৩৬ কিলোমিটার চার প্যাকেজ ও কক্সবাজার অংশে রয়েছে ২২.২০ কিলোমিটার দুই প্যাকেজ। বর্তমানে ওই প্রকল্পের ছয় প্যাকেজের একটির দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 
কর্ণফুলী টানেল সংযোগসড়কের কালাবিবি থেকে চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া পর্যন্ত ২১.০৮ কিলোমিটার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। 
বর্তমানের এ প্রকল্পের দুই প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে।  চলতি বছরের নভেম্বরে কাজ শুরুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রথম প্রকল্পের গুরুত্ব প্রস্তাবিত সড়কটি আনোয়ারা কালাবিবির দীঘী থেকে শুরু হয়ে চকরিয়া (ঈদমনি) পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মানে উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে ১০.৩০ মিটারে উন্নীত করা হবে। এ সংযোগ সড়কটি কর্ণফুলী টানেল-আনোয়ারা-বাঁশখালী হয়ে সরাসরি কক্সবাজারের চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৭২) এর মাধ্যমে এন-১কে সংযুক্ত করেছে।
সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একই সাথে ব্যস্ততম। এই সড়ক দিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক, বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী বৈলগাঁও চা বাগান, নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি, কক্সবাজার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাঁশখালী গন্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, কেইপিজেড, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ফলে এই সড়ক যানবাহনের তুলনায় অপ্রশস্থ হওয়ায় প্রায়শই যানজট সৃষ্টি হয় ও দুর্ঘটনা ঘটে আসছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অত্র এলাকায় নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে। এ ছাড়া এ সংযোগ সড়কটি কর্ণফুলী টানেল হয়ে সরাসরি কক্সবাজারের চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৭২) এর মাধ্যমে এন-১কে সংযুক্ত করবে বিধায় প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এবং বহু মানুষের কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে । 
বর্তমানে ঢাকা হতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরগামী যানবাহন, পণ্য পরিবহনে কর্ণফুলী টানেল হতে আনোয়ারা-শিকলবাহা ওয়াই জংশন-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া (চন্দনাইশ)-চকোরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে ১৩১ কি.মি. সড়ক পথ পাড়ি দিতে হয়। উল্লিখিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৪০ কি.মি. দূরত্ব হ্রাস পাবে ও প্রায় ১ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে কক্সবাজারগামী যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ি কর্ণফুলী টানেল হয়ে কালাবিবির দিঘী-বাঁশখালী টইটং পেকুয়া একতাবাজার অথবা ঈদমনি-চকরিয়া কক্সবাজার রুটে চলাচল করলে প্রায় ২৮ কি.মি. দূরত্ব হ্রাস পাবে ও প্রায় ৪৫ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমসমূহ (লাখ টাকায়) ভূমি অধিগ্রহণ ৩০.৮৬ হেক্টর, প্রকল্পে সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণ (মাটিরকাজ) ১৪ লাখ ১০ হাজার ৭৮৩.৮২৭ ঘ.মি., পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ (৫.৫০মি. হতে ১০.৩০মি.) ৪৪.৩৮৯ কি.মি., বিদ্যমান পেভমেন্ট মজবুতিকরণ (৫.৫০ মি.) ৪৪.৩৮৯ কি.মি., সার্ভেসিং (ডিবিএস-বেস ও ওয়ারিং কোর্স) (১০.৩০মি.) ৪৮.০৪৮ কি.মি., রিজিড (আরসিসি) পেভমেন্ট নির্মাণ (১০.৩০মি.)১০.১৫২ কি.মি.,বাস-বে নির্মাণ (৩.৭০মি.) (৩০টি) ৪.৫০ কি.মি.,আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ (৭৮টি) ৫০৩.০০ মি., আরসিসি বক্স কালভার্ট প্রশস্তকরণ (১৩টি) ৪৮.৮০ মি., আরসিসি ইউ ড্রেন নির্মাণ ৯ হাজার ৯৯০.০০ মি., সসার ড্রেন নির্মাণ ও সিসি ব্লক উইথ জিও.টেক্সটাইল ১৫ লাখ মি.,আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ১২ লাখ ব.মি., এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং দুই লাখ মি. কাজ রয়েছে ওই প্রকল্পে। ২য় প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে ২১.০৮ কিলোমিটার সড়ক স্ট্যান্ডার দুই লেনে উন্নীতকরণ, তিনটি পিসি গার্ডার সেতু ও ১৮টি বক্স কার্লভাট নিমার্ণ রয়েছে।
২য় প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল থেকে চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া পর্যন্ত ২১.০৮ কিলোমিটার (কালাবিরি দিঘী থেকে গাছবাড়িয়া) উন্নীতকরণ প্রকল্প প্রসংগে বলা হয়েছে বর্তমানে ঢাকা হতে কক্সবাজারমুখী যানবাহন ও পণ্য পরিবহনে কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা (চাতুরী) শিকলবাহা ওয়াই জংশন-শান্তিরহাট-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া (চন্দনাইশ) রুটে ৩৯ কি.মি. সড়ক পথ পাড়ি দিতে হয়। উল্লিখিত সড়কটি প্রশস্তকরণ করা হলে তার দুরুত্ব কমবে ১৮ কি.মি. সময় সাশ্রয় ৩৫ মিনিট।
এ ছাড়া এ  সড়ক নির্মাণ হলে সড়কের উভয় পাশে ঢাকা (যাত্রাবাড়ি)-কুমিল্লা (ময়নামতি)-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার (এন-১) জাতীয় মহাসড়ক ও পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী (চকরিয়া) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে।
এ সংযোগ সড়কটি আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলাকে সরাসরি কর্ণফুলী টানেল এবং চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রামের দণিাঞ্চল, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাথে সংযুক্ত করবে।
সড়ক প্রশস্তকরণে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া উপজেলা, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার নিজস্ব উৎপাদিত কৃষিজ ফলন, সামুদ্রিক মাছ, শীতকালীন শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল পেয়ারা আনারস ইত্যাদি নিয়ে সহজে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেয়া সহজ হবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা হতে কর্ণফুলী টানেল হয়ে যানবাহনসমূহের জন্য কক্সবাজারমুখী এটি একটি বিকল্প সড়ক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মধ্যে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণের মধ্যদিয়ে। সেই সাথে কর্ণফূলী টানেলে যানবাহন চলাচলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।