সম্পদের ভাণ্ডার
সম্পদের ভাণ্ডার ।


অনেক শতক আগে মিসরের মাটিতে বনি ইসরাইল নামে একটি গোত্র বাস করত। তাদের মধ্যে একজন লোক ছিল, তার নাম কারুন। আল্লাহ তায়ালা কারুনকে অঢেল ধনসম্পদ দান করেছিলেন। সোনা, হীরা-জহরত ও দামী দামি পাথরের অনেক ভাণ্ডার ছিল কারুনের। এসব ভাণ্ডারের চাবিগুলো বহন করার জন্য অনেক শক্তিশালী লোকের দরকার হতো। ইতিহাস থেকে জানা যায়, কারুনের সম্পদের যেসব সিন্দুক ছিল, সেগুলোর চাবি বহন করত ৭০ জন বলবান পুরুষ। তখনকার সময় ফেরাউন নামে একজন কঠোর প্রকৃতির ও জুলুমবাজ লোক মিসরের শাসনকর্তা ছিল। ফেরাউন ছিল ভয়ঙ্কর বর্বর স্বভাবের শাসক। সে বনি ইসরাইলি লোকদের মোটেও পছন্দ করত না। তা ছাড়া কারুন চরম কৃপণ ও বিকৃত রুচির মানুষ ছিল। কারুন ছিল ফেরাউনের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাই ফেরাউন তাকে দেশের মন্ত্রী বানিয়েছিল। ফলে এরপর থেকে কারুন কেবল দেশসেরা ধনী হিসেবেই পরিচিত ছিল না; সে রাষ্ট্র পরিচালনায় একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করল। তাই কারুন তার বংশীয় লোকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে শুরু করল। ফেরাউনের মতো কারুনও বর্বর ও হৃদয়হীন মানুষে পরিণত হলো। কারুনের ঘনিষ্ঠজনরা তাকে বলল, ‘তুমি বড় ধনী মানুষ। কিন্তু এ বড়ত্বের জন্য তোমার অহঙ্কারী হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ অহঙ্কারী কাউকে পছন্দ করেন না। আবার যারা কেউ কিছু চাইলে দিতে চায় না, তাদেরও আল্লাহ পছন্দ করেন না। লোকদের মুখে এসব কথা শুনে কারুন বলল, ‘আমি অবশ্যই অনেক চতুর এবং বুদ্ধিমান। আর এ কারণেই আমি ধনী হতে পেরেছি।’
কারুনের মনে আল্লাহর ভয় বলতে কিছুই ছিল না। তাই সে তার যুক্তির পক্ষে তার জাঁকজমক পোশাক, স্বর্ণালঙ্কার এবং তার বিশাল রাজপ্রাসাদের উদাহরণ পেশ করল। কারুনের এ বিবৃতি শুনে কিছু লোক চমকৃত হলো। তারা কারুনকে খুশি করার জন্য বলল, ‘কারুন অনেক ভাগ্যবান মানুষ। আমরাও চাই তার মতো ধনী হই।’
কিন্তু সেসব লোক যারা আল্লাহকে ভালোবাসতেন, তারা বললেন, ‘আল্লাহ সবকিছু ভালো জানেন। একমাত্র তিনিই জানেন, কোনটা ভালো এবং কোনটা মন্দ। আর সবশেষে আল্লাহ তাই পুরস্কার দেবেন, যা তিনি মনে করেন।’ এরপর একটি ভয়ঙ্কর বিষয় ঘটল। একদিন হঠাৎ মাটির মধ্যে গভীর ফাটলের সৃষ্টি হলো। এ ফাটলের মধ্যে কারুনের সব সম্পদ তলিয়ে গেল। মাটি কারুনকেও ছাড় দিলো না। সেও তার প্রাসাদ ও মনোরম বাগানসমূহসহ মাটির অভ্যন্তরে হারিয়ে গেল। এভাবে অহঙ্কারী কারুনের পতন ঘটল। কারুনের এ বিপর্যয়কর অবস্থা দেখে দেশের মানুষ হতভম্ব হয়ে গেল। তারা বলে উঠল, ‘আল্লাহ যাকে চান তাকেই প্রচুর সম্পদ দান করেন। আর তিনি যাকে খুশি তাকে সামান্য দান করেন। সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে।’ তারা আরো বলল, ‘আমরা আসলে খুব চালাক ও লোভী মানুষ। আমরাও কৃপণ কারুনের মতো সম্পদের মালিক হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়াশীল। তিনি আমাদের শাস্তি দেননি। তাই আমাদের যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত।’
কারুনের শাস্তি বিশ^াসীদের জন্য একটি বড় মাপের স্মরণিকা। তাই আল্লাহর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আমরা ধনী হই, কিংবা গরিব-সব সময় আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।

Advertisement