পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিতে বিশ্বে সাইবার হামলার শঙ্কা
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিতে বিশ্বে সাইবার হামলার শঙ্কা।

আহমেদ ইফতেখার
জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিছু সংস্থা ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধও রেখেছে।
পিএইচপি ৫-এর পরবর্তী সংস্করণগুলোও এই ত্রুটির ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পিএইচপি হালনাগাদ করা অথবা নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ না করা পর্যন্ত ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের কয়েকটি সরকারি সংস্থাও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
পিএইচপির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এই নিরাপত্তাত্রুটি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওয়েব প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউথ্রিটেকসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের সার্ভার-সাইড প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, তার প্রায় ৭৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া বিশ্বের প্রায় ৪৩ শতাংশ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার মূল প্রযুক্তির একটি হলো পিএইচপি। ফলে এই ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পরিচালনাকারী উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সংশোধনে কাজ করছে। নিরাপদে সমাধান কার্যকর করা না যাওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি সিস্টেম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সম্প্রতি উইকিপিডিয়ার কিছু অংশে প্রবেশ করতে পারেননি ব্যবহারকারীরা।
পিএইচপি শুধু ওয়েবসাইট তৈরিতেই নয়, ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টার মতো কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মেও ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি শেয়ারড হোস্টিং সেবা, কন্ট্রোল প্যানেল এবং বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যারও এই ভাষার ওপর নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজেরাও জানে না, তাদের ব্যবহৃত কোনো সেবার পেছনে পিএইচপি কাজ করছে।
পিএইচপি ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা ছিল, চলতি মাসের শেষ দিকে নিরাপত্তা ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি এর সমাধানে প্যাচ সরবরাহ করা। তবে গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রুটিগুলোর বিস্তারিত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে নিরাপত্তাঝুঁকির ব্যাপকতা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন দেখা দেয়। পিএইচপি ফাউন্ডেশন অবশ্য কেবল সর্বশেষ সংস্করণগুলোর জন্য নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করেছে। পিএইচপি ৮.১ বা তার আগের সংস্করণ ব্যবহারকারীদের নতুন সংস্করণে হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোফোস কাউন্টার থ্রেট ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডন স্মিথ বলেন, হ্যাকারদের কাছে এই ত্রুটিগুলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ শুধু নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করাই নয়; বরং কোনো প্রতিষ্ঠানের কোথায় কোথায় পিএইচপি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা শনাক্ত করে প্রতিটি ব্যবস্থায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম ও তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার বিভিন্ন স্তরে পিএইচপির ব্যবহার থাকায় সব ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা চিহ্নিত করা সহজ নয়।
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে নেদারল্যান্ডসে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 
ফিনল্যান্ডের সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভালতোরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি নেটওয়ার্কের ওয়েব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশের অপেক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ডেনমার্কের পৌরসভাগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কমবিট কয়েকটি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে দেশটির জাতীয় স্কুল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মও রয়েছে।

Advertisement