
বাংলাদেশের ব্যক্তিশ্রেণীর কর ব্যবস্থায় ২০২৬-২৭ করবর্ষে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, করের ধাপ পুনর্বিন্যাস, ন্যূনতম করের কাঠামো এবং সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিলে আর্থিক প্রণোদনাÑ সবমিলিয়ে নতুন ব্যবস্থায় করদাতাদের আয়, বিনিয়োগ ও কর পরিকল্পনার হিসাব নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য প্রকাশিত আয়কর নির্দেশিকা এবং ২০২৬ সালের অর্থ আইনের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পরবর্তী আয়ের ওপর ধাপে ধাপে ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য।
তবে করমুক্ত সীমা বাড়লেই সবার কর কমবেÑ এমন নয়। করের বিভিন্ন ধাপে হার পরিবর্তনের কারণে কিছু মধ্যম আয়ের করদাতাকে আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হতে পারে। ফলে নতুন করকাঠামোর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে শুধু করমুক্ত সীমা নয়, পুরো করধাপ, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত এবং আগে কেটে নেয়া করের হিসাবও বিবেচনায় নিতে হবে।
করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা
নতুন কাঠামোয় সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার প্রথম ৪ লাখ টাকা আয় করমুক্ত। এরপরের আয়ের ওপর প্রযোজ্য করহার নি¤œরূপ:
। আয়ের স্তর । করের হার ।
। প্রথম ৪ লাখ টাকা । শূন্য ।
। পরবর্তী ৩ লাখ টাকা । ১০% ।
। পরবর্তী ৪ লাখ টাকা । ১৫% ।
। পরবর্তী ৫ লাখ টাকা । ২০% ।
। পরবর্তী ২০ লাখ টাকা । ২৫% ।
। অবশিষ্ট আয় । ৩০% ।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়কর সাধারণত ধাপভিত্তিক পদ্ধতিতে হিসাব করা হয়। কোনো করদাতা উচ্চতর করধাপে পৌঁছালেই তার সম্পূর্ণ আয়ের ওপর সেই উচ্চ হার প্রযোজ্য হয় না। নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা আয়ের অংশে সংশ্লিষ্ট ধাপের হার প্রয়োগ করা হয়।
ধরা যাক, একজন সাধারণ করদাতার করযোগ্য আয় বছরে ১০ লাখ টাকা। প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর কর নেই। পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর হবে ৩০ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর হবে ৪৫ হাজার টাকা।
সে েেত্র বিনিয়োগজনিত রেয়াত বা অন্য কোনো সমন্বয়ের আগে তার মোট আয়কর দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, করহার বোঝার পাশাপাশি করযোগ্য আয় নির্ধারণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
করমুক্ত সীমা বাড়লেও কেন বাড়তে পারে কর?
নতুন কাঠামোয় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে আগের ৫ শতাংশ করধাপ বাদ দিয়ে করযোগ্য আয়ের প্রথম ধাপেই ১০ শতাংশ হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে করদাতাদের ওপর প্রভাব এক রকম হবে না।
এক দিকে করমুক্ত সীমা বৃদ্ধির কারণে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করের আওতার বাইরে থাকছে। অন্য দিকে পরবর্তী ধাপগুলোতে করের হার ও সীমা পুনর্বিন্যাসের ফলে তুলনামূলক বেশি আয়ের কিছু করদাতার করের পরিমাণ বাড়তে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, করযোগ্য আয় ১০ লাখ টাকা হলে নতুন কাঠামোয় কর দাঁড়ায় ৭৫ হাজার টাকা। পুরনো কাঠামোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, একই পরিমাণ করযোগ্য আয়ের েেত্র করের অঙ্ক বেড়ে যেতে পারে।
এখানে অবশ্যই একটি বিষয় মনে রাখতে হবে: তুলনাটি করতে হবে একই ভিত্তিতে নির্ধারিত করযোগ্য আয়, প্রযোজ্য করবর্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর রেয়াত বিবেচনায় নিয়ে।
নীতিগত প্রশ্নটি তাই শুধু করমুক্ত সীমা কত বাড়ল, তা নয়; বরং নতুন করধাপের কারণে বিভিন্ন আয়শ্রেণীর মানুষের প্রকৃত করভার কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যবিত্তের ওপর প্রভাব কোথায়?
বেতনভুক্ত চাকরিজীবী, পেশাজীবী এবং নিয়মিত আয় করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নতুন করকাঠামোর প্রভাব নির্ভর করবে তাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ও প্রযোজ্য ছাড়ের ওপর।
মধ্যবিত্তের েেত্র বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের অনেকের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় বাড়িভাড়া, খাদ্য, শিা, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে।
কাগজে-কলমে আয় বাড়লেও মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত ক্রয়মতা একই হারে বাড়ে না। এ অবস্থায় করকাঠামোর পরিবর্তন যদি কোনো করদাতার করের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তার হাতে ব্যয়যোগ্য অর্থ কমে যেতে পারে।
তবে শুধু করহার দেখেই প্রত্যেক মধ্যবিত্তের কর বেড়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। কারো করযোগ্য আয়, বিনিয়োগ, উৎসে কেটে নেয়া কর এবং প্রযোজ্য রেয়াত অন্য কারো থেকে আলাদা হতে পারে।
সুতরাং, নতুন ব্যবস্থার প্রকৃত প্রভাব নিরূপণে আয়ভিত্তিক তুলনা এবং করদাতার শ্রেণী অনুযায়ী বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্য বেশি করমুক্ত সীমা
নতুন কাঠামোয় সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি কয়েকটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য তুলনামূলক বেশি করমুক্ত সীমা রাখা হয়েছে।
২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী:
সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতা: ৪ লাখ টাকা।
নারী করদাতা ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতা : ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি : ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা : ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রতিবন্ধী সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তির বাবা-মা কিংবা আইনগত অভিভাবক : নির্ধারিত শর্তে প্রতিটি যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার করমুক্ত সীমা।
এই ব্যবস্থা সামাজিকভাবে বিশেষ বিবেচনাপ্রাপ্ত শ্রেণীর ওপর করের চাপ তুলনামূলকভাবে কম রাখার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে।
তবে বিশেষ করমুক্ত সীমা প্রযোজ্য হওয়ার েেত্র সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর পরিচয়, আইনগত শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ। তাই করদাতাকে নিজের েেত্র কোন সীমা প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ন্যূনতম কর : আয় কম হলেও দায় থাকতে পারে
নতুন করব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ন্যূনতম কর।
সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার মোট আয় প্রযোজ্য করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে নির্ধারিত শর্তে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর প্রযোজ্য হতে পারে। প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে ১ হাজার টাকার ন্যূনতম করের বিধানও রয়েছে।
এখানে একটি পার্থক্য বোঝা জরুরি। ন্যূনতম কর এবং সাধারণ করধাপ অনুযায়ী হিসাব করা কর এক বিষয় নয়। একজন করদাতার েেত্র কোনটি কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে প্রযোজ্য বিধান ও তার কর হিসাবের ওপর।
এই বিধান বিশেষ করে এমন করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাদের আয় করমুক্ত সীমার সামান্য বেশি কিংবা যাদের হিসাব অনুযায়ী করের পরিমাণ তুলনামূলক কম।
সময়মতো রিটার্ন দিলে আর্থিক সুবিধা
২০২৬-২৭ করবর্ষে রিটার্ন দাখিলের সময়ও করদাতাদের আর্থিক হিসাবের অংশ হয়ে উঠেছে।
এনবিআরের ঘোষিত ব্যবস্থায় ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের েেত্র প্রযোজ্য শর্ত সাপেে প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা।
১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে এই প্রণোদনা পাওয়া যায় না। অন্য দিকে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের েেত্র আইনে নির্ধারিত অতিরিক্ত করের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
বর্তমান তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের প্রণোদনা পাওয়ার সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে করদাতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রযোজ্য সময়সীমা যাচাই করা, রিটার্নে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কর পরিশোধ করা।
বিনিয়োগের রেয়াত : পরিকল্পনা ছাড়া লাভের হিসাব অসম্পূর্ণ
আয়কর পরিকল্পনায় বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতও গুরুত্বপূর্ণ।
যোগ্য বিনিয়োগ বা নির্ধারিত খাতে অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কর রেয়াত পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো বিনিয়োগ কর রেয়াতের যোগ্য হলেই সেই বিনিয়োগের পুরো অর্থ কর থেকে বাদ যাবে, এমন নয়।
নতুন কাঠামোয় বিনিয়োগজনিত রেয়াতের হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে। প্রকাশিত আইনি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যোগ্য বিনিয়োগের ওপর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হয়েছে এবং সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাই বিনিয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের যোগ্যতা, প্রযোজ্য সীমা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কর রেয়াতের হিসাব যাচাই করা জরুরি।
শুধু কর কমানোর উদ্দেশ্যে বিনিয়োগের পরিবর্তে নিজের আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেয়াই যুক্তিসঙ্গত।
ডিজিটাল রিটার্ন ও কর প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ
আয়কর ব্যবস্থাকে আরো সহজ ও স্বচ্ছ করার েেত্র অনলাইন রিটার্ন দাখিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় করদাতারা ঘরে বসে রিটার্ন জমা দিতে পারেন এবং প্রযোজ্য েেত্র উৎসে কেটে নেয়া করের তথ্য সমন্বয়ের সুযোগ পান। এতে কাগজপত্র জমা দেয়ার ঝামেলা কমতে পারে এবং কর পরিশোধের তথ্য সংরণ সহজ হয়।
তবে অনলাইন ব্যবস্থা চালু করাই যথেষ্ট নয়। করদাতাদের সঠিক নির্দেশনা, সহজবোধ্য ফরম, নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশেষ করে যারা প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন কিংবা ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন।
এ ছাড়া অনলাইনে আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও উৎসে কেটে নেয়া করের তথ্য দেয়ার সময় ভুল হলে রিটার্নের হিসাবেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে ডিজিটাল ব্যবস্থার পাশাপাশি করদাতাদের সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ও রাজস্ব আদায়ের প্রশ্ন
২০২৬ সালের অর্থ আইনে শুধু বর্তমান করবর্ষের জন্য নয়, পরবর্তী কয়েকটি করবর্ষের জন্যও ব্যক্তিশ্রেণীর করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থাকলেও ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগাম করহার নির্ধারণের সম্ভাব্য সুবিধা হলো, ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের করব্যয় সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারে।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি করনীতি কার্যকর করতে হলে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ :
১. করের আওতা কি আরো বিস্তৃত হচ্ছে?
২. নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা কি বাড়ছে?
৩. উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য কতটা নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা যাচ্ছে?
৪. কর ফাঁকি ও অপ্রদর্শিত আয় কমাতে প্রশাসনিক সমতা কতটা বাড়ছে?
৫. সাধারণ করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধ কতটা সহজ হচ্ছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শুধু করহার পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্বনীতির সাফল্য বিচার করা কঠিন।
কারণ, একটি কার্যকর করব্যবস্থার ল্য কেবল বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় নয়; বরং ন্যায্যতা বজায় রেখে করের আওতা বাড়ানো এবং নিয়মিত কর পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
উপসংহার : করদাতার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি কী?
২০২৬-২৭ করবর্ষের নতুন আয়কর কাঠামোতে করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি, করধাপ পুনর্বিন্যাস, ন্যূনতম কর এবং রিটার্ন দাখিলের সময়ভিত্তিক সুবিধাÑ সবকিছু মিলিয়ে করদাতাদের আগের তুলনায় আরো সচেতনভাবে হিসাব করতে হবে।
বিশেষ করে বেতনভুক্ত চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীদের উচিত নিজেদের প্রকৃত করযোগ্য আয় নির্ধারণ করা, উৎসে কেটে নেয়া করের তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং প্রযোজ্য রেয়াতের নথিপত্র সংরণ করা।
একই সাথে সরকারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হলো, করকাঠামোর পরিবর্তন বিভিন্ন আয়শ্রেণীর মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা।
শেষ পর্যন্ত একটি ন্যায্য আয়করব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপরÑ করদাতার সামর্থ্য অনুযায়ী কর নির্ধারণ, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং আয়কর পরিশোধকে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








