
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চক শিমলা গ্রামের ভূমিহীন যুবক মো: সাদ্দাম হোসেন। নিজের বলতে এক শতক জমিও নেই, নেই মাথার ওপর শক্ত ছাদ। অন্যের ভিটায় জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
টিনের চালে অসংখ্য ছিদ্র। সামান্য বৃষ্টি নামলেই আকাশ ভেঙে পানি পড়ে বিছানায়। আর শীতের রাতে বাঁশের কঞ্চির বেড়া ভেদ করে হু হু করে ঢোকে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। চারপাশের নিদারুণ দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে পুরো পরিবারকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের সাখাওয়াত সরদারের ভিটায় বাঁশের কঞ্চির বেড়া আর শত ছিদ্র টিনের চাল দিয়ে তৈরি ঘরটিতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে চার সদস্যের পরিবার চালাতে হয় তাকে। নিদারুন দুঃখ-কষ্ট, ক্ষুধায় হাড় জিড়জিড়ে শিশু সন্তানের দিকে তাকালেই যে কারো বুক কেঁপে উঠে। এতো কষ্টেও কাটে মানব জীবন! অভাবের কারণে ছেলেমেয়ের পড়াশোনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন সাদ্দামের মাত্র ৮ বান্ডেল টিন ও কিছু টাকা হলে তার মাথাগোজার একটু পোক্ত হয়।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘নিজের কোনো জমি নেই, থাকার মতো শক্ত ঘরও নেই। অন্যের ভিটায় থাকি। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। কনকনে শীতে বড় কষ্টে রাত কাটাতে হয়। কেউ যদি সামান্য কয়েক বান্ডেল টিন দিয়ে সাহায্য করতো, মাত্র যদি আট বান্ডেল টিন পাওয়া যেত একটি ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বাস করতে পারতাম।’ প্রতিবেশীরা বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারকে নিয়ে বেঁচে থাকার সাহস পেতো সাদ্দাম।’
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ‘ভূমিহীন ও অসহায় সাদ্দাম হোসেনের বিষয়টি খোঁজ নেয়া হবে। তাকে সরকারি বিভিন্ন সহায়তার আওতায় আনার যথাযথ চেষ্টা করা হবে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








