
শামসুর রহমান লালটু কলারোয়া (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে পানিফল (স্থানীয়রা বলেন পানিসিঙ্গাড়া) চাষ করে সুদিন ফিরছে অনেক কৃষকের। কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কলারোয়া পৌরসভার যুগীবাড়ি থেকে মুরারীকাটি পর্যন্ত যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পানিফল বিক্রি করছেন চাষিরা। জমি থেকে ফল তুলে বস্তায় ভরে যশোর, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম জানান, পানিফল একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ ফল চাষ করতে প্রয়োজন হয় জলাবদ্ধ পতিত জমি, ডোবা ও বিল। ইরি-বোরো ধান কাটার পর এসব জমিতে পানিফলের বীজ রোপণ করা হয়। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ ফল চাষে সার ও কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন পড়ে না।
বর্তমানে বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি পানিফল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পৌরসভার গোপীনাথপুর গ্রামের কয়েকজন চাষি জানান, তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানিফল চাষ করে আসছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে পরিচর্যা কম লাগে এবং উৎপাদন খরচও বেশ কম।
পৌরসভার চাষি আয়জুল, লাভলু ও ওসমান গণি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পানিফল চাষে ১০/১২ হাজার টাকা খরচ হয়। ফল বিক্রি করা যায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগিয়ে লাভবান হওয়ায় অনেকে এ ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কলারোয়ায় পানিফলের বাণিজ্যিক চাষ দেখে আশপাশের উপজেলার কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কেউ কেউ সরেজমিন চাষপদ্ধতি দেখে নিজেদের পতিত জমিতে এ ফল চাষ শুরু করেছেন।
স্থানীয় চাষিদের দাবি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ঋণসহায়তা দেয়া হলে পানিফল চাষের পরিধি আরো বাড়ানো যায়। এতে জলাবদ্ধ পতিত জমির সদ্ব্যবহার করে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করা যায়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








