৪ বছরে কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমানোর আহ্বান জাতিসঙ্ঘের

দ্য গার্ডিয়ান
জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর অভিঘাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে আসতে হলে আগামী চার বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (১৮ শতাংশ) কমাতে হবে। এ ছাড়া আগামী এক দশকের মধ্যে তা কমিয়ে আনতে হবে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ কর্মসূচিতে (ইউএনইপি) সম্প্রতি এমন হুঁশিয়ারি ও আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ছিল, তার সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এখনো সম্ভব।
ইউএনইপির বার্ষিক ‘এমিসন গ্যাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিশ্বনেতারা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও সে অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি নীতি বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ এর আগের বছরের প্রায় সমপর্যায়ে থেকে থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থবির রূপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একে সরাসরি কার্বন নিঃসরণের শীর্ষসীমা বলতে রাজি নন। কারণ ভূ-রাজনীতির চরম অনিশ্চয়তা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি রয়ে গেছে।
গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে পারলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। যদিও এই মাত্রার তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেও বিগত মাসগুলোর মতো তীব্র দাবদাহ ঘন ঘন ঘটবে, তবুও তা পরিস্থিতিকে আরো চরম ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

Advertisement