
- ৯ ম্যাচে ৩৫ গোল
- নাটকীয় জয় লিভারপুল ও নাপোলির
- পিএসজির কাছে হার বার্সেলোনার
- ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিক
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই ছিল প্যারিস সেইন্ট জার্মেই পিএসজি ও বার্সেলোনার লড়াই। পার্ক দে প্রিন্সেসে গত পরশু ছয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে শেষ দিকে জোড়া গোল করে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৯ ম্যাচে ৩৫ গোলের ম্যাচগুলোতে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকের সুবাদে ম্যানচেস্টার সিটি ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এএইকে এথেন্সকে। ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছে লিভারপুল। বোদো/গ্লিমিটের বিপক্ষে সাত গোলের ম্যাচে কষ্টের জয় তুলে নিয়েছে নাপোলি।
নিজেদের মাঠে বার্সেলোনার বিপক্ষে দাপুটে জয় পিএসজির। পুরো ম্যাচে বল পজিশনে পিছিয়ে থাকলেও গোলের জন্য ২০ শটের ১৪টি লক্ষ্যে রেখে চারবার জালের দেখা পায় পিএসজি। বল দখলে একটু এগিয়ে থাকা বার্সেলোনার ২০ শটের ৯টি লক্ষ্যে রেখে আদায় করে নেয় তিনটি গোল। বার্সেলোনাকে হারিয়ে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে নতুন ফরম্যাটের এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টানা দ্বিতীয়বারের চ্যাম্পিয়নরা। সবার ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও গোল পার্থক্যে দুইয়ে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল।
পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তুলে বার্সেলোনা ও পিএসজি। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। ইয়ামাল বল তুলে দেন প্রতিপক্ষের জুয়াও নেভেসের মাথায়। সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে কুবার্সির বাধা এড়িয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে পিএসজিকে এগিয়ে নেন ফরাসি ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এক গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জোরালো চেষ্টা চালায় বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত ৫৫ মিনিটে জাভি এসপার্টের গোলে সমতায় ফেরে কাতালানরা।
৭২ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে জোরালো হেডে স্বাগতিকদের আবার এগিয়ে নেন লুকাস হার্নান্দেজ। ৭৯ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত গোলে আবার ২-২-এ সমতায় ফিরে বার্সেলোনা। ম্যাচ তখন যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারত। কিন্তু দুই মিনিট পরই দূরপাল্লার শটে গোল করে পিএসজিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিতিনহা। ৮৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে ফাবিয়ান রুইজের গোল নিশ্চিত করে পিএসজির জয়। এই হারে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। অন্য দিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে টানা তিন জয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে পিএসজি।
এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির বড় জয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হ্যাটট্রিক করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফোডেন। গ্রিসের ক্লাবটিকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে সিটিজেনরা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফোডেন ছাড়াও বাকি গোল দু’টি করেন রায়ান শেরকি ও এলিয়ট অ্যান্ডারসন। ম্যাচে আর্লিং হলান্ডকে বিশ্রাম দিয়েও আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ধরে রেখেছিল সিটি। বড় এই জয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে এঞ্জো মারেস্কার দল।
এ দিন ভিলারিয়ালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিভারপুল। রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্প্যানিশ ক্লাবটিকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে অল রেডরা। অ্যানফিল্ডে শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেয় তারা। লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনে জোড়া গোল করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখে ইংলিশ ক্লাবটি।
সাত গোলের লড়াইয়ে নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিমিটকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে নাপোলি। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলায় ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করে ইতালিয়ান ক্লাবটি।
দিনের অন্য ম্যাচগুলোতে সেøাভান ব্রাতিসøাভাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে এএস রোমা। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে ইতালির ক্লাবটি। সাবাহর মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। প্রতিপক্ষের মাঠে কঠিন লড়াইয়ের পর জয় নিয়ে ফিরেছে জার্মান ক্লাবটি। এফসি পোর্তোকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন। প্রতিপক্ষের মাঠে ১০ জনের দল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছে স্টুটগার্টের বিপক্ষে। সøাভিয়া প্রাগার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে ফেনেরবাচে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








