সাড়ে ৬ বছরে সড়কে ৮ হাজার শিশুর প্রাণহানি

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে ছয় বছরে দেশে প্রায় আট হাজার শিশু প্রাণ হারিয়েছে। গতকাল রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে সাত হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন নিয়ে অসচেতনতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে তিন হাজার ৫৪৭ জনের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। দুই হাজার ৮৮৪ জনের বয়স ছয় থেকে ১২ বছরের মধ্যে ও এক হাজার ৫৩২ জনের বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ শিশু মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিশু নিহত হয়েছে। 
৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি। 
এতে বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীর সংখ্যাই বেশি তিন হাজার ৫৪৭ জন। এ ছাড়া ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী দুই হাজার ৮৮৪ জন এবং শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক হাজার ৫৩২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৫১৩ জন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে এবং ৯৬২ জন বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৭১৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে আঞ্চলিক সড়কে দুই হাজার ৮২ জন, মহাসড়কে এক হাজার ৯৭৪ জন এবং শহরের সড়কে এক হাজার ১৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে বিকেলের দিকে। এরপর সকালে ২৭ দশমিক ২২ এবং দুপুরে ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ শিশু দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন বলছে, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, শিশুদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি চালানো এবং আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবই শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
সংস্থাটির মতে, গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা হওয়ায় এবং যানবাহনগুলো কোনো নিয়ম-নীতি না মানায় সেখানে হতাহতের সংখ্যা বেশি। প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর এই হার রোধে অবিলম্বে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়ন, অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সড়ককে শিশুদের জন্য নিরাপদ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।