পাঁচ দিনের ছুটিতে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।। গত সোমবার বিকেল থেকেই বাস, ট্রেন লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। মঙ্গলবার সকাল থেকে তা আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এ দিকে বরাবরের মতোই যাত্রীর চাপকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো গেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কমবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
রাজধানীর বড় দুই বাস টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও  আশপাশের এলাকা গতকাল সকাল থেকেই যাত্রীদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাষ্য, টানা ছুটির কারণে বিভিন্ন রুটে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। বেশির ভাগ পরিবহনের টিকিট বিক্রি শেষ। অনেকে টিকিট না পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল ও রাতের টিকিট নিয়েছেন।  যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার উত্তর প্রান্ত থেকে শরীয়তপুর রুটে চলাচলকারী ফেম পরিবহনের টিকিট বিক্রি করছিলেন শাহ আলম। তিনি বলেন, ছুটি শুরু হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। আগের দিনও যাত্রীদের চাপ ছিল। শরীয়তপুরের ভাড়া ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ওই পরিবহনের যাত্রী দ্বীনেশ চন্দ্র অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ২৫০ টাকা হলেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ২৮০ টাকা করা হয়। কিন্তু পূজা উপলক্ষে ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।  
বরিশালে যাওয়ার জন্য সপরিবারে সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে অপেক্ষমাণ  আবদুর রহমান বলেন, ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন। কিন্তু যাত্রীর চাপের সুযোগ নিয়ে বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে। বরিশাল রুটে লোকাল বাসের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হলেও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে কোনো বাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লা রুটেও। এ রুটে বাসভাড়া নেয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা, যা অন্যান্য সময়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে থাকে।
এক আত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদে পরিবার নিয়ে পটুয়াখালী যাচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ৭০০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা করে। এ ছাড়া সিটিং সার্ভিস হলেও বাসের মধ্যে অনেক যাত্রীকে দাঁড় করিয়ে নেয়া হচ্ছে। সাথে তিনি বাসের ভেতরের ছবিও দিয়েছেন।
সদরঘাটেও দেখা গেছে প্রচণ্ড যাত্রীর চাপ। লঞ্চগুলো অন্যান্য সময় যাত্রী সঙ্কটে থাকলেও এখন কানায় কানায় পূর্ণ। ভোলার এক যাত্রী জানালেন, ডেকে বসার জায়গা নেই। করিডোরে চলাফেরা করার সব জায়গাতে বিছানা পেতে ভাড়া দেয়া হয়েছে। লঞ্চের স্টাফরা এ সুযোগে বাড়তি আয় করছে।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। একই সময়ে বন্ধ রয়েছে- ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও আদালত। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকছে।
পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি ঘোষণা করায় টানা পাঁচ দিনের অবকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস খোলা ছিল। গত ৫ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়- যা কার্যক্রর শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে।