
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যে দেশটির আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছেন যে, ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার’। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নাগপুরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, পশ্চিম থেকে আসা একটি ‘ঝড়’ সারা বিশ্বের ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে ভেঙে ফেলতে চাইছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ভারত। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম থেকে একটি ঝড় এসেছে, যা সব ধরনের ব্যবস্থা, সব ধরনের শালীনতা, সব ধরনের শুভতা, সব ধরনের সংস্কৃতি এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে। গত কয়েক দিন ধরে যে খবর আসছে তা শুনুন, ফ্রান্সে কী ঘটছে, আলবেনিয়ায় কী ঘটছে। বাংলাদেশে যা ঘটেছে, নেপালে যা ঘটেছে, এই সবই তাদের কাজ, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে এই দেশগুলোর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এখন পর্যন্ত তারা বলে যে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এমনটা কখনোই ঘটেনি। আগেও ঘটেনি, আজো ঘটছে না।
মোহন ভাগবত ভারতের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন এবং বলেন, এই চক্রটি বিশ্বজুড়ে কাজ করে এটা নিশ্চিত করার জন্য যে, তাদের নিজেদের স্বার্থে কাজ করা দালালরা যেন সর্বত্র প্রভাবশালী থাকে। ভারতের প্রবৃদ্ধি এই ধরনের কার্যকলাপকে সীমিত করবে, তাই ভারতই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
ভারতে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অধীনে ভোটার তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ভাগবতের এই মন্তব্য আসে।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আইসা সভাপতি নেহা বোরার সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ যখন বলেন, ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার’, তখন একটি রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে আসে। ভাগবত অভিযোগ করেন যে ভারতে ‘শয়তানি শক্তি’ সক্রিয় রয়েছে, কিন্তু দেশের নীতি, নেতৃত্ব এবং তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সচেতনতার কারণে তারা সফল হতে পারেনি। এই শয়তানি শক্তি এটা জানে এবং সেই কারণেই ভারত তাদের লক্ষ্য তারা বলে কিভাবে তারা ভারত, হিন্দু এবং সঙ্ঘকে ভেঙে ফেলবে। তারা ‘ভেঙে ফেলার’ কথা বলে এবং সাহায্যও পায়। রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা এবং ক্ষমতার লোভ কিছু নেতাকে এই ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে প্ররোচিত করতে পারে।
ভাগবত আরো বলেন, নির্দিষ্ট নীতি বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছুক নেতাদের অবশ্যই শালীনতা, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব এবং নাগরিকদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ ধীরে ধীরে সেই নীতিগুলো সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, যারা লড়াই শুরু করতে চায়, তারা লড়াই শুরু করবেই।
সমাধান আসে উদ্যোগ থেকে, আন্দোলন থেকে নয়
ভাগবত বলেন যে একটি বৃহৎ সমাজ ও উন্নয়নশীল দেশে সমস্যা অনিবার্য। গণতন্ত্রে বিক্ষোভের লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো বিবাদ, শত্রুতা বা বিভাজন সৃষ্টি না করে সমস্যার সমাধান করা। ভাগবত সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেহেতু তথ্য এখন সবার কাছে অবাধে সহজলভ্য, তাই তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনটি উপযুক্ত এবং কোনটি নয়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








