
- নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার
- স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ
ভোলায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ইউরিয়া সার সংরক্ষণের বাফার গোডাউন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে চলমান এই নির্মাণকাজে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। অনিয়ম তদন্তে কার্যকর পদক্ষেপে না নেয়া পর্যন্ত মানসম্মত কাজের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া কাজ শুরু করতে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ভোলার স্থানীয় বাসিন্দারা।
খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সুষ্ঠুভাবে সার সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই অংশ হিসেবে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশায় নির্মাণ করা হচ্ছে এই বাফার গোডাউন। বিসিআইসির তদারকিতে ‘মার্ক বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রকৌশলী মমিনুল হকের প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পে নি¤œমানের বালু, পাথর, ইট ও পুরনো রড ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে নির্মিতব্য ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে চলমান কাজ বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুর বড় অংশজুড়েই মিশে আছে মাটি ও মাটির চাকা। ঢালাইয়ের জন্য আনা পাথরের মান অত্যন্ত নি¤œমানের এবং পিলারে পুরোনো রড ব্যবহার করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় এক শত পিলার তোলা হলেও সেগুলোর বেশির ভাগেই নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সার ও রাসায়নিকের মতো স্পর্শকাতর পণ্য সংরক্ষণের জন্য তৈরি এ ধরনের ভবনে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ভোলা সদর উপজেলার ২ নম্বর ইলিশা ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির (বিজেপি) সদস্যসচিব নোমান হাওলাদার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কাজটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হলেও এর পেছনে সংসদ সদস্য মমিনুল হকের নাম জড়িত। সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পে যেভাবে অনিয়ম করা হচ্ছে, তা হতাশাজনক। বালুর নামে এখানে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দিয়ে কেউ নিজের বাড়ির উঠানও ঢালাই করবে না। গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় প্রকল্পে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা চাই সরকারি বিধিমালা ও নির্ধারিত এস্টিমেট অনুযায়ী কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হোক।
পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বিজেপি নেতা মো: রনি ও স্থানীয় বাসিন্দা মাসুমিয়াজী বলেন, অর্ধশত কোটি টাকার এমন একটি সরকারি প্রকল্পে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনিয়ম চালানো হচ্ছিল। সার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আর্দ্রতা, পরিবেশ ও নিরাপত্তা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। শুরুতেই এমন ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ চলতে থাকলে ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্ক বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রকৌশলী দিদারুর রহমান মানিক বলেন, সাধারণত আমরা এভাবে কাজ করি না। ড্রেজার দিয়ে তোলা বালুর সাথে ভেকু দিয়ে সরানোর সময় কিছু মাটি মিশে গেছে। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও আমার অনুপস্থিতিতে শ্রমিকেরা এই কাজটি করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে এই ভুলের দায় আমি এড়াতে পারি না।
বিসিআইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই এবং সকালে তিনি নিজেই উক্ত লটের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিশ্রামে থাকার সুযোগে শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা তা ধরে ফেলে। তিনি স্বীকার করেন, বালু ছেকে না নিয়ে এবং মাটিতে মিশ্রিত বালু দিয়ে এভাবে কাজ চালানো সম্পূর্ণ অনুচিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে চাঁদপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








