কঠোর পরিশ্রমের তাগিদ দিলেন তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক 
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সাথে বিশাল হারের পরও ভেঙে পড়ছে না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। আগামীকাল শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ভুলগুলো শুধরে নিজেদের প্রস্তুত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। এ দিকে বড় হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা করার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমের তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। 
গত শনিবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর সে দিন রাতেই খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেটারদের। 
গতকাল আবুধাবিতে দলীয় অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তামিমের বার্তার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তার দাবি, হারের ধাক্কা থাকলেও দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এখনো যথেষ্ট উদ্যম রয়েছে। কী ভুল হয়েছে, কী ভালো হয়েছে, সেসব নিয়ে আলোচনা করে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। 
ফিল সিমন্স বলেন, ‘তামিমের বার্তা ছিল এটিই- কঠোর পরিশ্রম করতে থাকো। আমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, কোটি কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করছি, এটা মাথায় রেখো। সবাই আমাদের সাফল্য দেখতে মুখিয়ে আছে। ওর কাছ থেকে মূলত এই বার্তাটাই ছিল।’ 
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন হারের পর দলের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লাগাটা স্বাভাবিক। তবে সেখানেই থেমে থাকতে চান না সিমন্স; বরং ভুলগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। কোচের বিশ্বাস, একটি খারাপ দিন দিয়ে দলের সামগ্রিক সামর্থ্য বিচার করা ঠিক হবে না। এ নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘ছেলেদের মধ্যে এখনো এনার্জি আছে। আজ (গতকাল) সকালেও আমরা একটা বৈঠক করেছি। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা জানি এখন আমাদের কী করতে হবে। আমরা ভালো খেলছিলাম। এটি ছিল এমন এক দিন, যে দিন কিছুই পক্ষে যায়নি। এখান থেকে কিভাবে কামব্যাক করতে হয়। আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরের গেমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।’ 
মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘হ্যাঁ, মিরাজকে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে। গত কিছু দিন সংগ্রাম করছিল। বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ আছে। আশা করি, পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।’ 
লিটনকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছেই 
ত্রিদেশীয় সিরিজে মাঠে নামার আগেই একটি চোটে ছিটকে গেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস। তার অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করছেন তৌহিদ হৃদয়। তবে লিটনের চোট নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। জানা গেছে, তার চোট গুরুতর নয়! ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরু থেকেই লিটনকে ঘিরে ছিল অনিশ্চয়তা। চোটের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে টস করতেও নামতে পারেননি। পরে বিসিবির ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান তার ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয় অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে! 
দেশে ফিরে বিসিবির চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন লিটন। প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত না থাকায় আশাবাদী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে চোটের প্রকৃত অবস্থা এবং মাঠে ফেরার সময় নির্ভর করছে তার পুনর্বাসন ও ফিটনেসের অগ্রগতির ওপর। 
সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। এমন অবস্থায় লিটনকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেয়ে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সব কিছু অনুকূলে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই ফিরতে পারেন লিটন। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে ঢাকা টেস্টে বিশ্রামে রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে। 
লিটনের অনুপস্থিতিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে যুক্ত হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। ইতোমধ্যে দলের সাথে যোগ দিয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। লিটনের জায়গায় সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণের বাড়তি দায়িত্বও থাকবে তার কাঁধে। জাতীয় দলে প্রতিটি সুযোগই সামর্থ্য জানান দেয়ার মঞ্চ। 
অন্য দিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় সিরিজটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রথম টেস্টের আগে সফরকারীদের প্রস্তুতির জন্য রাখা হয়েছে একটি অনুশীলন ম্যাচ। ফলে মূল লড়াইয়ের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে ক্যারিবীয়রা। তবে লিটনের মাঠে নামা নিয়ে একটু অনিশ্চয়তা তো থাকছেই।

Advertisement