রাঙ্গাবালীতে সংরক্ষিত বনের ৫০০ ঝাউগাছ উজাড়
চর সাইনবোর্ড এলাকায় বনাঞ্চলের ঝাউগাছ কেটে প্রস্তুত করা হচ্ছে তরমুজ চাষের ক্ষেত : নয়া দিগন্ত।

মাহমুদ হাসান, পটুয়াখালী 
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে আগাম তরমুজ চাষের জমি তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বন বিভাগের অভিযোগ, গত বছর একই ব্যক্তিরা খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করেছিলেন। ওই ঘটনায় মামলা চলমান থাকলেও এবার আবারো ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের পরও বনভূমি রক্ষা করতে না পেরে অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত শনিবার বিকেলে রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালীর চরসাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মীর, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মীর ও মানিক মোল্লা। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ বন বিভাগের।
কাউখালী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহম্মেদ খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করেন। পরে গত শনিবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর একই ব্যক্তিরা প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করেছিলেন। এ ঘটনায় তার করা দু’টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ওই বন কর্মকর্তা আরো জানান, মামলাগুলো বর্তমানে স্যাগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। তার দাবি, লিগ্যাল এইডের আদেশের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের চাষাবাদের অনুমতি দিয়েছেন এবং বন বিভাগকে বাধা না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই একপক্ষীয় আদেশ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে চরসাইনবোর্ড এলাকায় ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ রোপণ করা হয়েছিল। ওই বাগানের গাছ কেটে তরমুজ চাষের জমি তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আমির হোসেন বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ উপড়ে ফেলে বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঘটনায় জিডি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ মীর বলেন, বন বিভাগ যে জমিকে বনভূমি বলছে, তা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেয়া হয়েছে। বৈধভাবেই তারা মাটি কেটে তরমুজক্ষেত তৈরি করছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে জমিটি খাস দেখিয়ে অভিযুক্তদের নামে বন্দোবস্ত দেন। এ ঘটনায় তহশিলদার মো: জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে বন বিভাগ।
উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহিদুর রহমান বলেন, জমিটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল হওয়ায় বন্দোবস্ত বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে গত ৩ আগস্ট ও ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানানো হয়নি।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বন বিভাগের চিঠি তার হাতে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে তদন্ত করা হবে। জমিটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃষিবিদ মো: নাঈম হোসাইন বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চল ঝড়ের প্রভাব কমানো, মাটির ক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব বন উজাড় হলে প্রাকৃতিক সুরাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রাণীর আবাসস্থলও নষ্ট হয়।

Advertisement