
রফিক আহমদ চকরিয়া (কক্সবাজার)
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর প্রায় তিন বছর হলেও কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হয়নি। ফলে চকরিয়াসহ আশপাশের ছয়টি উপজেলা এবং পার্বত্য লামা ও আলীকদমের বহু মানুষ সরাসরি ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, চকরিয়ার সাহারবিল রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি ও টিকিট কাউন্টার চালু করা হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ব্যবসাবাণিজ্যেও গতি আসবে।
কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে চকরিয়া অংশে তিনটি রেলস্টেশন থাকলেও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ কোনো স্টেশনেই যাত্রাবিরতি করে না। স্থানীয়দের ভাষ্য, চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীদের ঢাকায় যাতায়াত করতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের কক্সবাজার রেলস্টেশনে যেতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় বাড়ছে। অথচ ট্রেন দু’টি চকরিয়ার ওপর দিয়ে চলাচল করলেও যাত্রীরা সেখান থেকে ওঠানামার সুযোগ পাচ্ছেন না।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জামিল ইব্রাহিম এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ নুরুল ইসলাম হায়দার চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়ার জামায়াত নেতা মোজাম্মেল হক ও পৌর জামায়াতের সভাপতি আরিফুল কবির বলেন, এ অঞ্চলে ব্যবসাবাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হাজারো মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের জন্য সরাসরি ট্রেনসেবা গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রাবিরতি না থাকায় তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসী বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া ও উপকূলীয় অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের যাতায়াত এবং এলাকার উৎপাদিত চিংড়ি, লবণ ও কৃষিপণ্য পরিবহনে রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ অবস্থায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহারবিল রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং টিকিট কাউন্টার চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








