সচিবালয় স্থানান্তর ও ‘মহিলা ও শিশু’ বদলে হচ্ছে ‘নারী ও শিশু’

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সাথে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠের ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গাজুড়ে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালে নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লুই আই কানের মূল ভাবনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নান্দনিক স্থাপনাটি গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটিতে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনে তিনটি বেজমেন্ট, তিন হাজার ৮০০ গাড়ির পার্কিং এবং ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন থাকবে। এ ছাড়া দু’টি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া, মসজিদ ও ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব প্রাক্কলনের কাজ বর্তমানে চলমান।
বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং সরকারের ভর্তুকি হ্রাস করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
নতুন এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো আগামী গ্রীষ্মের আগে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারী কেন্দ্রিক ‘ওপেক্স’ এবং প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ‘ক্যাপেক্স’- এই দু’টি অর্থায়ন মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশের ফলে বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ধারণ ও ছাদ ব্যবহারের আইনি জটিলতা নিরসন হবে।
বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক চুক্তি
বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
ইতঃমধ্যে ১৬৭টি দেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হলেও দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ও ভুটান এর বাইরে ছিল। এই কনভেনশনে অন্তর্ভুক্তির ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যালের আন্তর্জাতিক তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার, সচিবালয় থেকে কারিগরি সহায়তা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত হলো।