গণপূর্তের লটারি নিয়ে বড় প্রশ্ন, ১২০ কোটি টাকার পদায়ন-বাণিজ্য : তদন্তের দাবি

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ 

Advertisement

গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্য প্রকৌশলীদের বদলি এবং পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির আয়োজন করা হলেও সেই প্রক্রিয়া নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৩ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তার বদলি-পদায়নের জন্য লটারি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, লটারির আগেই বিভিন্ন কর্মস্থলের ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক পদে পদায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, স্বার্থের সঙ্ঘাত এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ছাড়া যেসব প্রকৌশলীকে ঢাকায় বদলি করে আনা হয়েছে বা পদায়ন করা হয়েছে তারা বিতাড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে থেকেই কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের দফতর বা বাসভবনের দায়িত্ব পালন করবেন। আবার কয়েক জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে। 
নিরীহ কর্মকর্তাদের দাবি, গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন) কাজী মো: ফিরোজ হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সরোয়ার জাহান বিপ্লব, নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ও মো: জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা পদায়নপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে লটারি ও ক্যাটাগরি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় এবং নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এই পুরো লটারি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির জন্য ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যার পুরোটাই মধ্যস্থতা করেন সংস্থাপন বিভাগের দুই নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ও মো: জিয়াউর রহমান। লটারি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো বিভাগের দায়িত্বও নিজেদের বসাতে সক্ষম হন সংস্থাপন বিভাগের এই দুই নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ছাড়াও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পাওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এ পদায়ন করা হয়েছে সাবেক ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতা মাসুম বিল্লাহকে। বরিশাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হয়েছে চুয়েট ছাত্রলীগের পদধারী নেতা মেহেদী হাসানকে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে। সিলেট গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে অর্ণব বিশ্বাসকে। যিনি বুয়েট ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। এ ছাড়াও ইতঃপূর্বে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে পদায়নকৃত নিমিতোষ উঝাকে ঢাকার অন্য স্থানে পদায়ন করা হলেও কোনরকম তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। কমিটি গঠন করা হলে হয়তো বর্তমানের বিতর্কিত পদায়ন এড়ানো যেত।
এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ ঢাকার আওতাধীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দায়িত্ব পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা যুবলীগ নেতার পুত্র ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পরিবারের সন্তান  নির্বাহী  প্রকৌশলী  রেজা তাইমুর মালিক।
সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করছেন, প্রোমোশনের ফাইলের জন্য এনএসআইর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেপিআই স্থাপনায় পদায়নের ক্ষেত্রে তা নেয়া হয়নি কেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আগত ডিসেম্বর মাসে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আগমনের গুজবের প্রাক্কালে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির মূল কারিগরের খোঁজ নেয়া প্রয়োজন। 
লটারি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান হিসেবে বিবেচিত অতিরিক্ত সচিব সারওয়ার আলম এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বিপ্লবের বাড়ি জামালপুরের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম সাহেবের উপজেলা মাদারগঞ্জে। মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ এই দুই ব্যক্তি ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বড় কোনো ষড়যন্ত্র করছেন কি না তা যাচাই করাও এখন সময়ের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পদায়নের জন্য ১১৬টি পদকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৪০টি, ‘বি’তে ৩২টি, ‘সি’তে ২০টি এবং ‘ডি’তে ২৪টি পদ রাখা হয়। লটারির ফলাফলে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪০টি পদের মধ্যে ২০ জন আগের ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকেই এসেছেন; অন্যদিকে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে যথাক্রমে ১১, ৫ ও ৪ জন ‘এ’তে গেছেন। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরির ৩২টি পদের মধ্যে আটজন আগের ‘বি’ ক্যাটাগরিতেই রয়েছেন। তবে ক্যাটাগরি নির্ধারণের ভিত্তি এবং লটারির প্রকৃত পদ্ধতি প্রকাশ না করায় প্রক্রিয়াটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
সরোয়ার জাহান বিপ্লব: লটারি ও নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সরোয়ার জাহান বিপ্লবের বিরুদ্ধে লটারির ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ লেনদেনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের একাংশের দাবি, এ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ ও ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে। কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেয়ার সময় অর্থ নেয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। 
আ ন ম মাজহারুল ইসলাম : ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ
নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজের ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ ও বদলি নিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন এবং প্রভাবশালী মহলের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। লটারি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত এই আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা কিভাবে  ‘শেরেবাংলা-২’ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব পেল তা নিয়ে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন থেকেই যায়। পাশাপাশি লটারি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভালো পোস্টিং পাইয়ে দিতে যে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে সেটার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। 
মো: জিয়াউর রহমান: গ্রেডিং ও শেরেবাংলা নগরে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ক্যাটাগরি নির্ধারণের সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, তার অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন কিভাবে করা হয়েছিল এবং কোন মানদণ্ডে তাকে উচ্চতর ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল। অতীতে তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে বিরোধ, দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা এবং ওএসডি থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
স্বপন চাকমা : নিয়োগ, বদলি ও প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী স্বপন চাকমার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে দরপত্র, প্রকল্পের বিল, নিয়োগ ও বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন, বালু ভরাট এবং কাজের মান নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এক ঠিকাদারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিল ও কার্যাদেশ নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছিল। এমনকি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। 
প্রদীপ বসু : নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ
প্রদীপ বসুর বিরুদ্ধে আ ন ম মাজহারুল ইসলামের সাথে মিলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলেন এই কর্মকর্তা।
রাশেদা হাসান : রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
রাশেদা হাসানের পদায়ন নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনের পর তিনি মিরপুর এবং পরে আজিমপুরে পদায়ন পান। তিনি সাবেক মন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। 
কাজী ফিরোজ হাসান : বদলি-পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ
কাজী ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে স্বপন চাকমার সাথে মিলে উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ে বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা। 
সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব নামে সিভিলের নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাকেও বিশেষ কায়দায় এ ক্যাটাগরিতে রেখে সিটি ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে প্রদান করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব ফ্যাসিস্ট সরকারের সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর টেম্পারিং করা ডি ও লেটার এর মাধ্যমে পোস্টিং কেলেঙ্কারির  সাথে জাতীয়ভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।
ঢাকায় নবীনদের পদায়ন, জ্যেষ্ঠদের জেলা পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, ৩২তম ও ৩৩তম ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ, কামরুল হাসান, জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য, মনিরুজ্জামান জিতু, মাহমুদুল হাসান লিমন ও রেজা তাইমুর মালিকের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, ২৪তম ও ২৭তম ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে যথাক্রমে মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদায়নের অভিযোগ রয়েছে।
গণপূর্তের ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, ২৭তম বিসিএসে প্রথম স্থান অধিকারী বলে উল্লেখ করা মহসীনকে ঢাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব না দিয়ে ফেনীতে পাঠানো হলেও ৩৩তম ব্যাচের মাসুম বিল্লাহ কিভাবে ছয় মাসের মধ্যে আবার ঢাকায় পদায়ন পেলেন? 
তদন্তের দাবি
গণপূর্ত অধিদফতরের সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা গণপূর্তকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছে। তাদের বক্তব্য, লটারির উদ্দেশ্য যদি ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করা হয়, তবে ক্যাটাগরি নির্ধারণ থেকে চূড়ান্ত পদায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ লেনদেনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক নথি ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানও প্রয়োজন। তা না হলে গণপূর্ত অতীতের ন্যায় দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত সংস্থাপন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে মিথ্যা বলে দাবি করেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে অথবা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তা তদন্ত করা আবশ্যক। এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে অনেক অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করবে এবং সরকারকে দ্রুতই বেকায়দায় ফেলবে। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।