
মোছাদ্দেক হোসাইন লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর প্রায় তিন বছর হতে চললেও প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে নেই রেলওয়ে পুলিশের কোনো থানা বা ফাঁড়ি। এতে যাত্রী ও রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ আসার অপেক্ষায় স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়।
গত ৯ জুন লোহাগাড়া-সাতকানিয়া সীমান্তের বারদোনা শরীফপাড়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয় স্কুলছাত্র শহিদুল ইসলাম টিপু (১৭)। কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাংয়ের বাসিন্দা টিপু নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। লাশ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কক্সবাজার থেকে রেলওয়ে পুলিশ আসতে রাত ১১টা বেজে যায়। পরে রাত ২টার দিকে লাশ দাফন করা হয়।
গত ২৯ আগস্ট লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় শ্রবণপ্রতিবন্ধী শাহাব উদ্দিন (৪৩) নিহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে ১১টি স্টেশন সচল রয়েছে। প্রতিদিন চারটি ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অধীন ষোলশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও কক্সবাজারের একটি ক্যাম্প থেকে পুরো রেলপথের নিরাপত্তার দেখভাল করতে হয়। এ পথে দু’টি থানা ও ছয়টি ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য ২২০ জন পুলিশ সদস্য চাওয়া হলেও এখনো জনবল নিয়োগ হয়নি। লোহাগাড়া স্টেশন মাস্টার মো: এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশি অবকাঠামো না থাকায় দুর্ঘটনা, চুরি, নাশকতা ও অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হচ্ছে। রেললাইনের যন্ত্রাংশ চুরি এবং লাইনে গবাদিপশুর বিচরনের ঝুঁকিও রয়েছে। আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি না থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। আমিরাবাদ ইউপি সদস্য হোসাইন মো. সরপু বলেন, রেললাইনের যন্ত্রাংশ ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড চুরির ঘটনাও ঘটছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত বলেন, দুটি থানা ও ছয়টি ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য ২২০ জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্তত অর্ধেক জনবল পাওয়া গেলে অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করে নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








