
এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের কড়া নিষেধাজ্ঞা চলছে দেশজুড়ে। অথচ এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই পেটের টানে প্রতিদিন পদ্মা নদীতে নামছেন প্রকৃত জেলে মফিজুদ্দিন। দু’টি মাছ ধরার নৌকা থাকা সত্ত্বেও কপালে জোটেনি জেলে কার্ড, তাই মেলেনা কোনো সরকারি সহায়তাও। পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে নদীতে মাছ ধরতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত চোর-পুলিশ খেলায় বাধ্য হচ্ছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলে মফিজুদ্দিন বলেন, আমার দুটি নৌকা থাকলেও কার্ড পাইনি। ভ্যানচালক ও কৃষকরা সহায়তা পায়, যারা মাছ ধরে না। তাহলে সরকারের অবরোধ কীভাবে মানব? সংসার তো বসে থাকে না। আরেক জেলে ইমরান মিয়া জানান, লুকিয়ে মাছ ধরেও এখন খরচ ওঠে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, ছয়-সাত বছর ধরে মাছ ধরলেও কার্ড না পাওয়ায় পেটের দায়ে তাদের নদীতে নামতে হয়।
মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে শত শত নৌকায় নির্বিঘেœ চলছে ইলিশ শিকার। ভোররাত বা সকালে প্রশাসন অভিযান চালালে জেলেরা তীরের দিকে চলে আসেন, আর ফাঁকা পেলেই গভীর রাতে কিংবা ভরদুপুরে জাল নিয়ে নেমে পড়েন নদীতে।
প্রকৃত জেলেরা তালিকায় না থাকা ও সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও অনেক প্রকৃত জেলে কার্ড পাননি। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, ভ্যানচালক কিংবা কৃষকদের অনেকেই কার্ড পেলেও প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হয়েছেন সরকারি চাল বা অনুদান থেকে। অন্যদিকে, মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় এবং অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে ৭১২ জন কার্ডধারী জেলে এবার সরকারি সহায়তা থেকে বাদ পড়েছেন।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞার প্রথম ৯ দিনে জেলায় ৩১টি অভিযান ও পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২১ জেলেকে আটক করা হয়েছে। জনবল ও প্রয়োজনীয় নৌযানের চরম সংকট রয়েছে। এ সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নিজস্ব নৌকায় অন্য শ্রমিকদের দিয়ে মাছ শিকার করানোর অভিযোগও রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








