পাকিস্তানে গেল আনারসের প্রথম চালান

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে আনারসের বাণিজ্যিক রফতানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম চালানে টাঙ্গাইলের মধুপুরে উৎপাদিত প্রায় দুই টন (১.৮৩ মেট্রিক টন) প্রিমিয়াম মানের আনারস সরাসরি ঢাকা-করাচি ফ্লাইটে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান এ সম্ভাবনাময় বাজারে বাংলাদেশী আনারসের এক নতুন বাণিজ্যিক দুয়ার উন্মোচিত হলো।
রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সামিন ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিআইএর সরাসরি ফ্লাইটে এ চালানটি পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে রওনা হয়। করাচি হয়ে ফলগুলো লাহোরভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইম টেক’-এর কাছে পৌঁছাবে। ঢাকা ছাড়ার আগে রাজধানীর শ্যামপুর প্যাকিং হাউজে রফতানিযোগ্য প্রতিটি আনারসের নিখুঁত বাছাই, বৈজ্ঞানিক গ্রেডিং এবং সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে শ্যামপুর প্যাকিং হাউজের উপপরিচালক মো: আমিনুর রশিদ মুকুল জানান, মধুপুর থেকে সংগৃহীত ১.৮৩ মেট্রিকটন আনারস আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কড়া তদারকিতে প্যাকিং শেষে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের বাজারে আমাদের আনারসের এ ঐতিহাসিক সূচনা দেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
প্রথম চালানটি সফলভাবে পাঠানোর পর ইতোমধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দু’টি ভিন্ন বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাকিস্তানে মোট ৪২ টন আনারস সরবরাহের বাণিজ্যিক অর্ডার চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল সামিন ইন্টারন্যাশনালের ঝুলিতেই রয়েছে ২২ টন মধুপুরের প্রখ্যাত ‘ক্যালেন্ডার’ জাতের আনারসের কার্যাদেশ। অন্য একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান পেয়েছে আরো ২০ টনের অর্ডার।
সামিন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমেদ এ সাফল্যকে তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন আখ্যা দিয়ে জানান, আমার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে তৈরি পোশাক ও রাইস ব্র্যান অয়েল রফতানি করে আসছে। আবার পাকিস্তান ও ভারত থেকে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও শুকনা বরই আমদানির ব্যবসাও ছিল। কিন্তু দেশের তাজা ফল বিদেশের মাটিতে পাঠানো এ প্রথম। এ ফল বাজারে ছাড়ার আগেই পাকিস্তানি আমদানিকারকদের কাছে দুর্দান্ত সাড়া পাচ্ছি।
ব্যবসায়ী ও কৃষিখাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, পাকিস্তানের বিশাল বাজারে কেবল আনারসেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যও যুক্ত করা সম্ভব। জুয়েল আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানে মরিঙ্গা পাউডার (সজিনা পাতা), তাজা পান, সুপারি, নারকেল, কাঁঠাল ও ড্রাগন ফলের ব্যাপক সুনির্দিষ্ট চাহিদা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং করাচির বাংলাদেশ দূতাবাস যদি কৌশলগত সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবে পাকিস্তানি বাজারে আমাদের কৃষিপণ্যের স্থায়ী একচ্ছত্র বাজার তৈরি হবে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে এর আগে ইউরোপের কয়েকটি দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতে সীমিত পরিসরে তাজা আনারস রফতানি করা হতো। তবে পাকিস্তানের বিশাল আমদানিনির্ভর ফল ও মসলার বাজারে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পরিধি অনেকখানি বিস্তার লাভ করবে। দুই দেশের আকাশ ও নৌপথের বাণিজ্যিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত ও তাজা ফল পাঠাতে পারলে তা জাতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।