
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
পারিবারিক বিরোধের পৃথক ঘটনায় ভাইয়ের হাতে ঝিনাইদহে দুই ভাই এবং সিলেটে এক ভাই নিহত হয়েছে। অন্য দিকে তিন জেলায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে তুচ্ছ পারিবারিক কলহের জেরে পৃথক দু’টি ঘটনায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই এবং বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে শৈলকুপা ও সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মজিবুল ইসলাম (৪৫) নিহত হন। গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বাড়ির আঙিনার একটি গাছ থেকে বড় ভাই মজিবুল কিছু সুপারি পাড়লে ছোট ভাই রবিউলের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার বিকেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে রবিউল লাঠি দিয়ে বড় ভাই মজিবুলের মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মজিবুলকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত রবিউল গা-ঢাকা দিলেও গ্রামবাসী তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
অন্য দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশিপুর-চাঁদপুর গ্রামে শনিবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই সুমন মণ্ডলের (৩০) কোদালের আঘাতে ছোট ভাই সোহান মণ্ডল (২৬) খুন হয়েছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, বিকেলে সুমনের সাথে সোহানের স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে সন্ধ্যা রাতে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে একপর্যায়ে সুমন পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত সোহানকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়রা হুমা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বোনের বিয়েতে দাওয়াত না দেয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত নাজিম উদ্দিন (৪৫) লুদরপুর গ্রামের মরহুম গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। গ্রামবাসী ও পুলিশ সদস্যরা জানান, শুক্রবার পরম ধুমধামে অনুষ্ঠিত হয় নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে। তবে কোনো কারণে বিয়ের মূল দিনে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। আর তাতেই বাধে বিপত্তি!
ক্ষোভে-অপমানে ফুঁসতে থাকে মাসুমের পরিবার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে শনিবার সকালে সোজা চাচাতো ভাই মাসুমের বাড়িতে ছুটে যান নাজিম উদ্দিন। ভেবেছিলেন একটু হাসিমুখ আর মিষ্টি কথায় বরফ গলবে। কিন্তু কোথায় কী! দাওয়াত নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই ঘরের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতের মতো ফেটে পড়ে। বাগি¦তণ্ডার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে মাসুম ও তার ভাইয়েরা দা-ছুরি নিয়ে সোজা ঝাঁপিয়ে পড়ে নাজিম উদ্দিনের ওপর। কোপাকুপির পর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে মাটিতে ফেলে রেখে সটকে পড়ে ঘাতকরা। পরে স্থানীয় ও স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে উদ্ধার করে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের কর্তব্যে থাকা চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলার রাজাপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ওই যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
নিহত যুবকের নাম আসিফ (২৫)। তিনি রাজাপুর এলাকার মো: দলু মিয়া ও হালিমা বেগমের ছেলে। আহত বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজার (৫০) রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় হোসেন ম্যানেজারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ওঠে আসিফের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা আসিফকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় আসিফকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ দিকে, হামলায় গুরুতর আহত বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বশির আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আসিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।
রায়পুরা( নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে অটোরিকশা চালক আরমান ফকির (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রায়পুরা থানা পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ বাজারসংলগ্ন হাসনাবাদ নয়াহাটি এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে এ লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত অটোরিকশা চালক আরমান আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের নলবাটা ফকির বাড়ির সালাউদ্দিন ফকিরের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীতে সকালে স্থানীয়রা তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। প্রথমে লাশের পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে লাশটি উদ্ধার হলে লাশটি দ্রুত শনাক্ত করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নিহতের ছোট ভাই জানান, রোববার দিন দুপুরে অটোরিকশা চার্য দিয়ে বাড়ি থেকে কারো ডাকে বের হয়। এক সপ্তাহ পর আজ রোববার তার লাশটি আড়িয়াল খাঁ নদীতে পাওয়া যায়।
আমীরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, সকাল ১০টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে রায়পুরা থানায় খবর দিয়ে লাশ উদ্ধার করি। তবে লাশটির মুখমণ্ডলসহ পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তার প্রাথমিক পরিচয় তার পরিবার দাবি নিখোঁজ আরমানের লাশ এটি। তবে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ ঘর থেকে মানিক শেখ (৩২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার মিরাকান্দা সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মানিক শেখ ওই এলাকার আব্দুর রব শেখের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে নানা-নানির কাছে থাকে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় লেগুনা চালাতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে মানিকের স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকে তিনি একাকিত্বে ভুগছিলেন। পাশাপাশি আর্থিক সঙ্কটেও ছিলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় মিরাকান্দা সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিজের ঘরের দরজার সাথে মানিকের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিজ ঘরের আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মোছা. রোজিনা আক্তার (৫০) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রোজিনা আক্তার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চর-ভাঙ্গুড়া খাঁ পাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোজিনা আক্তারের মেয়ে বৃষ্টি নিয়মিত সকালে মায়ের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে মাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে পাশের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে একটি শিশুকে রোজিনার বাড়িতে পাঠানো হয়। শিশুটি বাড়িতে গিয়ে রোজিনাকে ঘরের আড়ার সাথে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা-পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








