
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পথে বাংলাদেশের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ জিম্বাবুয়ে। তবে প্রতিপক্ষের আগে নিজেদের চোট ও অসুস্থতার ধাক্কা সামলানোই হয়ে উঠেছে বড় পরীক্ষা! এমন সমীকরণে খেলতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৭১ রান।
তাসকিনের বোলিং তোপে ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। দু’জনে ১৭৬ বলে ১৫০ রানের জুটি গড়েছেন। অন্য দিকে এই জুটি ভাঙতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সাইফ হাসান ভাঙেন এই জুটি। মোসাদ্দেককে ক্যাচ দিয়ে ৮১ রানে বিদায় নেন ব্রেন্ডন টেলর। তার বিদায়ের পর আরভিন সেঞ্চুরির (৯৩) পথে যখন এগুচ্ছিলেন তখন শরিফুলের বলে সোহানকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
মাঝে একটি রিভিউও হারিয়েছে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেকের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করেন টেলর। বল তার প্যাডে আঘাত হানলে এলবিডব্লিউর আবেদন। আম্পায়ার সাড়া না দেয়ায় রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের ইমপ্যাক্ট ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। ফলে জীবন পান টেলর। ৬৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারে ৪০তম হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ফিফটির দেখা পেয়েছেন ক্রেইগ আরভিন- এটি তার ২৬তম ফিফটি।
তাসকিনের তোপে ২৪ রানে তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ের। বল হাতে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তাসকিন আহমেদ। ব্রায়ান বেনেট (০) ও বেন কারানের (৬) পর তার শিকার তাফাদজওয়া সিগা (১৬)।
আরো একটি উইকেট গেল সাইফ হাসানের ঝুলিতে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে চার রানে সোহানের ক্যাচ বানান। তাসকিন ৩টি, শরিফুল ও সাইফ দুটি করে এবং রিশাদ এক উইকেট নেন।
লিটন-মিরাজ আউট তৌহিদ-সোহান ইন
আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজটি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। লক্ষ্য বড়, পরিকল্পনাও দীর্ঘমেয়াদি! কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের পরিকল্পনায় দেখা দিলো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চোটের কারণে ছিটকে গেলেন নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। অসুস্থতার কারণে নেই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাংলাদেশের ১৮তম অধিনায়কের দায়িত্ব পড়েছে তৌহিদ হৃদয়ের কাঁধে। আর উইকেটের পিছনে সামাল দিলেন নুরুল হাসান সোহান।
আবুধাবির শেখ যায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তবে টসের চেয়েও বাংলাদেশের জন্য বড় খবর ছিল দলীয় সমীকরণে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন। পূর্ণ মেয়াদে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল এই ম্যাচ দিয়ে। আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও ছিলেন তিনি। কিন্তু চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হয়নি তার। ফলে অধিনায়কত্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে আরো অপেক্ষা করতে হচ্ছে লিটনকে। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেলেন।
জ্বরের কারণে একাদশে নেই মিরাজ। ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজে দলীয় সমন্বয় ও খেলোয়াড়দের কার্যকারিতা যাচাই করতে চায় বাংলাদেশ। সেখানে অধিনায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডারকে না পাওয়া নিঃসন্দেহে পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ নিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। পেস বিভাগে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। স্পিন আক্রমণে ছিলেন রিশাদ ও মোসাদ্দেক। ব্যাটিংয়ে ওপেনার হিসেবে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য। এরপর শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক ও সোহানকে ঘিরে সাজানো হয়েছিল ব্যাটিং লাইনআপ।
আফগানিস্তানকে নিয়ে এই ত্রিদেশীয় সিরিজ বাংলাদেশের জন্য কেবল আরেকটি প্রতিযোগিতা নয়। ২০২৭ বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা, নতুন সমন্বয় পরীক্ষা করা এবং ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ এটি। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি সেই পরিকল্পনাকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








