
উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার রাসায়নিক সারের ডিলারশিপ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার একটি ইউনিয়ন ছাড়া সবকটি ইউনিয়নের ডিলারশিপই বিএনপি নেতা, কেন্দ্রীয় নেতার শ্যালক, উপজেলা নেতার ভাই, ছেলে ও সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীসহ স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের সবাই সম্পূর্ণ নতুন ও অনভিজ্ঞ। কৃষিপণ্য বা সার ব্যবসার সাথে তাদের পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি সারের ডিলারশিপ হাতিয়ে নিতে কোনো প্রকার ব্যবসা ছাড়াই শুধু গোডাউন বানিয়ে রাতারাতি নতুন ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডিলারশিপ বঞ্চিত প্রবীণ ও ত্যাগী বিএনপি নেতারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলছেন, ‘কঠিন সময়ে দল করে আজ আমাদের কী লাভ হলো? টাকার কাছে আমরা হেরে গেলাম।’ বড় অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে হাইব্রিড ও স্বজনদের প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে দল থেকে পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন।
১০ নং বড়হর ইউনিয়নের নিয়োগ বাতিল না হলে পুরো ইউনিয়ন কমিটি একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সেখানকার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধন না করা হলে তার যাবতীয় দায়ভার জেলা প্রশাসককে বহন করতে হবে।
জানা যায়, সলপ ইউনিয়নের খন্দকার এন্টারপ্রাইজ (প্রো: মো: শফিকুল ইসলাম) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের শ্যালক। বড়হর ইউনিয়নের খন্দকার মিথিলা ট্রেডার্স (প্রো: কে এম মাসুদ রানা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট অফিসার ও জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার ভাই। বাঙালা ইউনিয়নের মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজ (প্রো: ফারহানা সুলতানা) সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। মোহনপুর ইউনিয়নের আর কে ট্রেডার্স (প্রো: মো: রাকিব হাসান) মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামানের ছেলে ও তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। দুর্গানগর ইউনিয়নের মেসার্স মল্লিক ট্রেডার্স (প্রো: মো: ইসতিয়াক মল্লিক) উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পঞ্চকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে।
উল্লাপাড়া পৌরসভার জান্নাত ট্রেডার্স (প্রো: মো: আলাল হোসেন জিন্নাহ) উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল সরকারের ভাই ও উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি।
সলঙ্গা ইউনিয়নের মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স (প্রো: মো: আব্দুল হামিদ মোল্লা) সলঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি নেতার ভাই।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মেসার্স মোজাহারুল ইসলাম ট্রেডার্স (প্রো: মো: আফছার উদ্দিন) ওলীদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
উধুনিয়া ইউনিয়নের মেসার্স লিয়ানা এন্টারপ্রাইজ (প্রো: মো: জাকির হোসেন) ফাজিল নগর উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মেসার্স সীমান্ত ট্রেডার্স (প্রো: আব্দুল্লাহ হোসাইন হাসু) চাকসা ইউনিয়ন বড় পাঙ্গাসী বিএনপির সাবেক সভাপতি।
পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের মেসার্স মশিউর ট্রেডার্স (প্রো: মো: শামছুল আলম) গোয়ালজানী পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।
হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স (প্রো: মো: শামীম হাসান) হাটিকুমরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের মেসার্স হীরা ওয়েল মিলস (প্রো: মো: রইছ উদ্দিন হীরা) উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের মেসার্স আনাম এন্টারপ্রাইজ (প্রো: মো: গোলাম মোস্তফা) উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো: আজাদ হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে আমি এই দলটিকে আগলে রেখেছি। দলের জন্য জেল-জুলুম, নির্যাতন- কত কিছুই না সহ্য করেছি। তবুও দলের প্রতি ভালোবাসা ও আদর্শ থেকে কখনো পিছপা হইনি।
আজ সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এটা দেখে যে, দলের ত্যাগী, নিঃস্ব ও কর্মহীন কর্মীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ সুবিধা পেয়েছে সেইসব সুবিধাবাদীরা, যারা দলের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না, রাজপথে কোনো ত্যাগ স্বীকার করেনি। শুধু নেতার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সার ডিলারেরশিপ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রায়হানুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই, কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








