গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল
নির্মাণাধীন ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল : নয়া দিগন্ত।

 মো: সেলিম রেজা গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের কাজ ৩০ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও ১২ বছরেও তা সম্পন্ন করা হয়নি। দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোয় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ৫১ কোটি টাকা। অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষ না হওয়ায় অনুমোদন পেয়েও শুরু করা যাচ্ছে না কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সরকারি বিশেষায়িত দন্তচিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে সাড়ে সাত একর জমিতে ৮৮ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ছিল বাস্তবায়নকাল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন করা হয়। এখন তা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১১২ কোটি ৮১ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ মূল বরাদ্দের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫১ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ১৪টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবাসন, শিক্ষক ডরমেটরি, অধ্যক্ষের বাসভবন, কর্মচারীদের আবাসনসহ সাবস্টেশন, পাম্প ও জেনারেটর কক্ষ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কলেজটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে দন্তচিকিৎসকের সংখ্যা বাড়বে, রাজধানীনির্ভরতা কমবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবিপিএল অ্যান্ড ডিসিএল (জেভি)-এর সিনিয়র প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো: সোহেল রানা বলেন, কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে। সময় বাড়ানোর প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে আছে। মেয়াদ বাড়লে চলতি অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার মণ্ডল বলেন, প্রকল্পের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। সময় ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা যাবে।
প্রকল্প পরিচালক ডা. মো: শাহরিন তরফদার বলেন, অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কলেজের অ্যাকাডেমিক অনুমোদন পাওয়া গেলেও অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত না হওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করে কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

Advertisement