মাতামুহুরীর কোনাখালীতে আবাদি জমিতে ঢুকছে নোনা পানি
কোনাখালী স্লুইজ গেইট দিয়ে ঢুকছে লোনা : নয়া দিগন্ত।

এ এম ওমর আলী চকরিয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের সদ্য ঘোষিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের তিনটি স্লুইসগেট খুলে দেয়ায় জমিতে দেদার ঢুকছে নোনা পানি। এতে স্থানীয় প্রায় ৬০০ হেক্টর আবাদি জমির মৌসুমি ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জোয়ারের নোনা পানিতে ফসলহানির আশঙ্কায় রাত জাগছেন এলাকার অন্তত কয়েক শ’ কৃষক। ভুক্তভোগী কৃষকেরা ক্ষয়ক্ষতি যাচাই এবং স্থায়ীভাবে স্লুইসগেটের সঠিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনাখালী এলাকার বেড়িবাঁধে অবস্থিত তিনটি স্লুইসগেট মূলত বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন এসব স্লুইসগেট বর্তমানে দেখভাল করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম। তিনি স্লুইসগেট তিনটির সার্বিক তদারকির দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন নিজের পছন্দের তিনজন ব্যক্তিকে।
কৃষকদের অভিযোগ, ঘেরে নোনা পানি ঢুকিয়ে মাছ চাষের সুবিধা দিতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রতিরাতে গোপনে স্লুইসগেটগুলোর কপাট খুলে দেন এবং সকালে তা আবার বন্ধ করেন। এর ফলে জোয়ারের সাথে খালের নোনা পানি সরাসরি আবাদি জমিতে প্রবেশ করছে। ফলে চলতি মৌসুমের আমন ধান ও শাকসবজির ক্ষেত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
কোনাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ কৃষক জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালের পানি নোনা হয়ে যাওয়ায় ক্ষেতের ক্ষতি ঠেকাতে পুকুরে সেচ-পাম্প বসিয়ে পানি দিচ্ছি। কিন্তু সে পানি দিয়েও তো আবাদ বাঁচানো যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে রাতে স্লুইসগেট খুলে নোনা পানি ঢুকানো হচ্ছে। এটা বন্ধ না হলে শত শত একর জমির ফসল একবারে বরবাদ হয়ে যাবে।
কৃষকদের আশঙ্কা, অনতিবিলম্বে নোনা পানির প্রবেশ ঠেকানো না গেলে মাটিতে লবণাক্ততার তীব্রতা বাড়াবে, যা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে ব্যাহত করবে। এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি বহু কৃষকের মূলধন হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা চাষাবাদ করেছেন, তারা মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ে পড়বেন।
কোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম বলেন, যাদের স্লুইসগেট দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তাদের কড়া ভাষায় নিষেধ করা হয়েছে। আর কোনোভাবেই স্লুইসগেটের কপাট খুলবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন।
মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী প্রথম আলোকে বলেন, স্লুইসগেট-সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ রয়েছে। নোনা পানি ঢোকার তথ্যটি পাওয়ার পর পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। ফসলের ক্ষতি এড়াতে সেখানে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
মাতামুহুরী ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই স্লুইসগেটগুলো পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকের আবাদি জমিতে নোনা পানি ঢুকিয়ে জনস্বার্থ ও কৃষির ক্ষতি করার প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Advertisement