১১৫৩ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি খতিয়ে দেখছে সংসদীয় কমিটি
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জহির উদ্দিন স্বপন : নয়া দিগন্ত।

 সংসদ প্রতিবেদক

Advertisement
  •  এক বছরে মেয়াদ বেড়েছে ২৫৬ প্রকল্পের
  •  কর্ণফুলী টানেলের বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুর্বলতার কারণে সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ পর্যালোচনার পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেলের বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান এক হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র পর্যালোচনা করছে কমিটি।
গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান এক হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের তালিকা কমিটির সদস্যদের সরবরাহ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র উপস্থাপন করে সেগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সে বিষয়েও কমিটিকে অবহিত করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সমস্যা, যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করা, সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ করে প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই, সময়মতো অর্থ ছাড় এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতা নিরসনে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার গুণগত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এ দিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। ন্যায্যতার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনবলসঙ্কট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে শূন্য পদের বিপরীতে সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল কর্ণফুলী টানেল। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া এবং বর্তমানে আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে কাজ করবে সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে আগের সভার কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে দৃঢ়ীকরণ করা হয়।
বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমপি-সহ কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো: সাইফুল আলম খান মিলন এবং মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অংশ নেন। 
এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।