
নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীদের মধ্যে আরো সাতজনের মৃত্যু হলো। গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৮৭২ জন। চলতি বছর গত জানুয়ারি থেকে ডেঙ্গুতে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৪২ জন। অন্য দিকে চলতি মাসের গত ১৬ দিন ১২ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের এবং এই ১৬ দিন ১২ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ হাজার ৬৯২ জন। অক্টোবরের এই কয়েকদিনে দৈনিক গড়ে প্রায় এক হাজার ৮৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে। এর বাইরে আরো অনেক রোগী রয়েছে যারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয় না, ফলে তাদের তথ্যও সরকারি তথ্যে জমা হয় না।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, তিনজন রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনই রাজধানীর বাইরের ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অর্থাৎ ঢাকা বিভাগেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বাইরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের তিনজন পুরুষ এবং চারজন নারী। চলতি বছর গত জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট এক লাখ ১০ হাজার ৩১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। এর মধ্যে এক লাখ চার হাজার হাজার ১৯৯ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ছয় হাজার ১১৩ জন।
গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬০ জন। একই সময়ে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৮৬৫ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভেতরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৩২৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২৩ এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১৯ জন। একই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭ জন ভর্তি হয়েছে। রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬ জন। সিলেট বিভাগের হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছে ১৩ জন।
সারা দেশে ডেঙ্গুতে যে ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে কেবল ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১৬১ জনের। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৯৫ জন, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৪৩ জন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে খুলনা বিভাগে মারা গেছে ৬৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে বিভাগে ৩২ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা কিংবা চোখের পেছনে ব্যথা- ডেঙ্গুর পরিচিত এসব লক্ষণ অনেকের ক্ষেত্রে থাকলেও সবার উপসর্গ এক রকম নয়। কারো জ্বর বা শরীর ব্যথা তুলনামূলক কম থাকলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। আবার জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর বিপজ্জনক জটিলতা দেখা দিচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর কমলেই ডেঙ্গুমুক্ত হয়েছেন, এমন ধারণা বিপজ্জনক। রোগের সঙ্কটকাল সাধারণত জ্বর শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে, বিশেষ করে জ্বর কমার সময় দেখা দিতে পারে। এ সময় রক্তচাপ কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৬ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪১৭ জন। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৩ জনে। ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৮ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষার ফল পর্যবেক্ষণ করতে হয়। শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে রোগীর অবস্থা কতটা গুরুতর, তা নির্ধারণ করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








