দুর্গাপূজায় উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তিথি অনুযায়ী এবার মহাসপ্তমী দুই দিন ধরে পালিত হবে। সে জন্য আজও মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে মহাঅষ্টমী পূজা। 
সপ্তমী পূজার সকালে পূজার শুরুতেই দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। এরপর করা হয় নবপত্রিকা স্থাপন। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান। পূজা শেষে হাতের মুঠোয় ফুল, বেলপাতা নিয়ে ভক্তরা মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি দেন দেবীর পায়ে।  এজন্য সকাল থেকেই দুর্গাভক্তরা দেবীর আরাধনায় পূজামণ্ডপগুলোতে দিনভর ভিড় জমায়। সারা দেশের মন্দিরগুলোতে সপ্তমী পূজার পর ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। ছয় দিনব্যাপী পূজা উপলক্ষে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন কাপড় পরে নারী-পুরুষ ও শিশুরা এক মন্দির থেকে আরেক মন্দিরে ঘুরে ঘুরে পূজা উপভোগ করছেন। 
মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুক্রবার শুরু হয় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আগামী ২১ অক্টোবর দুর্গোৎসব শেষ হবে। 
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭) চট্টগ্রামের অধিনায়ক। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে অধিনায়ক বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাংলাদেশের ঐতিহ্য। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। এই অধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো সবার সামাজিক দায়িত্ব।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে এসআরবি-৭ অধিনায়ক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পূজার আয়োজন নির্বিঘœ রাখতে পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।