
নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জয়নুল আবেদীন আজাদ উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি বলেন, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ৫২ বছর ধরে কাজ করে টিকে থাকা অসাধারণ অর্জন। ফুলকুঁড়িদের উদ্দেশে তিনি সাফল্যের পেছনে অবদান রাখা মানুষদের কখনো না ভোলার আহ্বান জানান। স্বেচ্ছাসেবার ঐতিহ্য ধরে রাখায় সংগঠনটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্বেচ্ছাসেবী চেতনা দেশের সব শিশুর মাঝে ছড়িয়ে পড়বে।
সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, শিশুদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানাতে ফুলকুঁড়ি আসরকে সচেতন উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের নেতৃত্বে নতুন পথ তৈরিতে সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং এ লক্ষ্যে জ্ঞানার্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আরো বলেন, মেয়েশিশুদের যতœ না নিলে জাতি বেশি দূর এগোতে পারবে না। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ও সৎ নেতৃত্ব তৈরিতে ফুলকুঁড়ি আসর যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অব:) মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন এবং রাজশাহী জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট ও ফুলকুঁড়ি আসর রাজশাহী মহানগরীর উপদেষ্টা সভাপতি মজিজুল হক। ফুলকুঁড়ি আসরের প্রধান পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রধান পরিচালক আশরাফুল ইসলাম ও সাবেক প্রধান পরিচালকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রমের মধ্যে ছিল মাইন্ড ম্যারাথন সিজন-৩, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ১১তম জাতীয় শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, বৃক্ষরোপণ প্রতিযোগিতা, ভিডিও ছড়াপাঠ প্রতিযোগিতা, ১০ম জাতীয় দেয়ালিকা উৎসব, অগ্রপথিক ব্যাজ প্রদান এবং স্মৃতিলিখন প্রতিযোগিতা। এসব বিভাগসহ মোট ১১টি বিভাগের বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। সারা দেশ থেকে আসা প্রায় দুই হাজার শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর অংশগ্রহণে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। উৎসবে ১১টি বিভাগে মোট ২৬৭টি পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল গান, কবিতা আবৃত্তি, পরিবেশবান্ধব কোরিওগ্রাফি, থিম সং, নাটিকা ও পাপেট শো। পরে শিশুতোষ নাটক ‘বন্দী খাঁচার পাখিরা’ মঞ্চস্থ হয়। বিজ্ঞপ্তি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








