
সিএনএন
রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রির ওপর প্রস্তাবিত নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদিত একটি আইনের ভিত্তিতে এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে গত শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের বিরাজমান দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা রুশ আগ্রাসনে ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের সহায়তায় শিথিলতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এলো, যা ইউরোপীয় মিত্রদের নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। স্থগিত হওয়া নতুন বিধিনিষেধে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সবচেয়ে বেশি কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর সুযোগ ছিল। মূলত এই প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত জ্বালানি রাজস্বই মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনায় বড় অর্থায়ন হিসেবে কাজ করে। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রকাশিত ওই আদেশে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে বলে তিনি কংগ্রেসকে নিশ্চিত করেছেন।
ওই আইনটি গত জুলাইয়ে প্রয়াত সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যিনি রাশিয়ার প্রতি কঠোর নীতির জন্য পরিচিত ছিলেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। একে নেতৃত্বের ‘চরম ও চরমমাত্রায় অনুমেয় ব্যর্থতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরোক্ষ ছাড় দিলেন ট্রাম্প। একই সুরে আইনটির অন্যতম সহপ্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি পুতিনকে সন্তুষ্ট রাখার একটি কৌশল মাত্র।
ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে চরম ফাটল
সাম্প্রতিক বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রফতানির অনুমতি দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক সমঝোতায় ইউরোপীয় নেতারা বেশ বিস্মিত হন, আর জেলেনস্কি প্রকাশ্যে জানান যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশে জ্বালানির চড়া দাম কমানোর উদ্দেশ্যে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধে অব্যাহত চাপ দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। কিয়েভ সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত রাখলেও পরবর্তীতে আবার আক্রমণ শুরু করে। ট্রাম্প অবশ্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দরবৃদ্ধির পেছনে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকেই দায়ী করছেন, যদিও একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দেশে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








