তায়িজে হাউছিদের অগ্রগতি, এডেন বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
তায়িজ শহরের পশ্চিমে জাবাল হান ফ্রন্টের কাছাকাছি এগিয়ে যাচ্ছেন ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর সদস্যরা : ইন্টারনেট।

আলজাজিরা ও দ্য টাইমস অব ইসরাইল
ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তায়িজ প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে হাউছি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে। পাহাড়ি অঞ্চল জেবেল সাবারের সংযোগকারী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ইতোমধ্যে হাউছিদের দখলে চলে গেছে। উঁচু অবস্থানগুলোতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করায় এখন প্রধান সড়ক এবং সরকারি বাহিনীর সামরিক যানবাহনের ওপর সরাসরি নজরদারি চালাতে পারছে বিদ্রোহীরা। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, এই সঙ্ঘাতের জেরে অবরুদ্ধ শহরটিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এদিকে গত শুক্রবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হাউছি বাহিনী। ঠিক সেই মুহূর্তে সেখান থেকে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিমানটি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানে। বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অলৌকিকভাবে বিমানটির যাত্রী ও ক্রুরা অক্ষত রয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে হাউছিদের চালানো রক্তক্ষয়ী হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন। অন্যদিকে, মারিব ও তায়িজ প্রদেশে পাল্টা অভিযান জোরদার করেছে সরকারি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সংঘর্ষে ৪৩০ জনের বেশি হাউছি যোদ্ধা নিহত এবং শতাধিক সামরিক যান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্ঘাত নিরসনে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। গত শুক্রবার ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের অনুরোধ পেলে শত্রুতা বন্ধে সব ধরনের কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রয়োগ করতে ইরান প্রস্তুত। ইয়েমেনি যোদ্ধারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় দাবি করে তিনি জানান, গত ১২ বছরের সঙ্ঘাতে প্রমাণিত হয়েছে যে সামরিক হস্তক্ষেপ বা অবরোধ দিয়ে কখনোই এই সঙ্কটের সমাধান সম্ভব নয়।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় মিশরের ভূমিকাও জোরালো হয়েছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এ বিষয়ে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক পদক্ষেপগুলো আক্রমণাত্মক হবে না, বরং পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হাউছিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরাইল ব্যাপক সহযোগিতা করছে এবং এর ফলে রিয়াদ ও তেলআবিবের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আগের চেয়ে আরো জোরালো হয়েছে।

Advertisement