
হামিম উল কবির
রাজধানীর পূর্বাচল ও ঝিলমিল নতুন শহর প্রকল্পে গৃহ নির্মাণে প্লট গ্রহীতাদের জন্য ফ্লোর এরিয়া রেশিওতে (ফার) ০.৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে এই প্রণোদনা পাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে প্লিন্থ লেভেল পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারলে মূল নকশা অনুমোদন ফি’র ২০ গুণ জরিমানা গুনতে হবে। গত ১৪ অক্টোবর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই কঠোর বার্তা দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে নকশা অনুমোদনপত্রের জন্য আবেদন দাখিল করলে পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব আয়তনের আবাসিক প্লটের ক্ষেত্রে ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফার সুবিধা প্রযোজ্য হবে। রাজউক আশা করছে, এ সুবিধার ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজউকের এই দু’টি মেগা প্রকল্পে প্লট গ্রহীতারা দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণে এগিয়ে আসবেন।
তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর নির্দিষ্ট এক বছরের মধ্যে অবশ্যই প্লিন্থ লেভেল পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। নির্মাণকাজের এই ধাপের মধ্যে রয়েছে সাইট প্রস্তুতি, মাটি খনন, ফাউন্ডেশনের জন্য পিসিসি (প্লেন সিমেন্ট কনক্রিট) ঢালাই, বেস বা ফুটিং থেকে গ্রাউন্ড লেভেল পর্যন্ত কলাম নির্মাণ এবং প্লিন্থ বিম স্থাপন। এর পাশাপাশি মাটি বা বালি ভরাট (স্যান্ড ফিলিং), কমপেকশন, আর্দ্রতা প্রতিরোধে ডিপিসি (ড্যাম্প প্রুফ কোর্স) স্তর এবং মেঝের ফ্লোর টাইলস বা ঢালাইয়ের বেস সম্পন্ন করাকে একত্রে প্লিন্থ লেভেল পর্যন্ত কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে গ্রহীতাকে নকশা ফি’র ২০ গুণ অর্থ জরিমানা দিতে হবে।
তবে নিছক ফার প্রণোদনা দিয়েই প্লট মালিকদের কোটি কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা যাবে কিনা- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও আবাসন খাতের সংশ্লিষ্টরা। আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগকারীরা তখনই টাকা ঢালবেন যখন আগামী দিনগুলোতে সেই বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা বা ভাড়া আসার নিশ্চয়তা থাকবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও নতুন এই দুই শহরে মানুষ বসবাস শুরুর জন্য অপরিহার্য নাগরিক সেবার এখনো ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে জানান, কোনো নতুন এলাকাকে বসবাসের উপযোগী করতে যাতায়াতের পর প্রথম শর্তই হলো মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এর পাশাপাশি কাছাকাছি কর্মসংস্থান, চিকিৎসাসেবা, কাঁচাবাজার ও দৈনন্দিন কেনাকাটার মার্কেট থাকতে হয়। এসব প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা না গেলে কেবল ফার প্রণোদনা কিংবা জরিমানার ভয় দেখিয়ে মানুষকে পূর্বাচল বা ঝিলমিলে নিয়ে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করানো কিংবা নতুন বিনিয়োগে বাধ্য করা বেশ কঠিন হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








