যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ‘সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের  নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চার কর্মীসহ সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩। জনপ্রতি আট থেকে ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপে এই প্রশ্ন ও সমাধান ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
রাজধানীর কাওরান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এই তথ্য জানান।  আরেফীন জানান, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর তাকে স্পষ্ট ছবি পাঠান।
এরপর নূর মোহাম্মদ সেই প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর এবং এনবিআরের আরেক কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলামের কাছে পাঠান। চক্রের অন্যান্য সদস্যের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেয়া হয়। এই চক্রের সাথে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদফতরের ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম এবং চাকরিপ্রত্যাশী মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজন সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গত ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান থেকে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম এবং মিরপুর-১০ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে ১১৬টি স্ট্যাম্প, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি মূল সনদপত্রসহ মোট ১৫টি সনদ, চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, আটটি মোবাইল ফোন, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে তিন লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা ফেসবুক থেকে প্রশ্ন পাওয়ার দাবি করলেও তা নির্ভরযোগ্য মনে করছে না তদন্তকারীরা। প্রশ্নটি নূর মোহাম্মদকে সকালে কে দিয়েছিল এবং কিভাবে তা সরকারি হেফাজত থেকে ফাঁস হলো, তা উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদফতরের নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।