
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গণভোটের রায় অস্বীকার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, এভাবে চললে শেখ হাসিনার সরকারের মতোই পরিণতি হবে এ সরকারেরও। একই সাথে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীর শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি; সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে। গত নির্বাচনের আগে একটি দল বলে বেড়াত, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। অথচ এখন সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
২০২৪ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন জামায়াত ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু বর্তমানে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে আগের সরকারের মতোই দলীয়করণ চলছে; বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে; উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও ভাগ বসানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে ক্ষমতা এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে গেছে। এর বিপরীতে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকেই ‘একমাত্র নিরাপত্তার স্থল’ মনে করে বলে দাবি করেন তিনি।
গাজীপুরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বসবাস করেন। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুকনদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ইসলামী চেতনা ধারণ করে নিজেদের নফস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের মানুষের সাথে ভালো ও সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। উত্তম আচরণ ও নৈতিকতার মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি সর্বাবস্থায় সুদ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, মাওলানা শাহজাহান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও ড. খলিলুর রহমান মাদানি, সাবেক জেলা আমির আবুল হাশেম খান এবং জেলা আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম।
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সমাজগঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ছোটখাটো মতভিন্নতা দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নাহর আলোকে সমাজগঠনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা এই কুরআন যাদের বুকের মধ্যে ধারণ করার শক্তি দিয়েছেন, তারা যেন কুরআনের শিক্ষাকে সমাজে বাস্তবায়নের জন্য নেতৃত্ব দিতে পারেন। আমরা মেহরাব থেকে নেতৃত্বের আসনে আপনাদের দেখতে চাই।
গতকাল নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় পাঁচ মাসব্যাপী আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, হাফেজে কুরআন, প্রতিযোগী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রতিযোগিতায় ১০ পারায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ছোট্ট রিদওয়ান বিন আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, তার বাবা, মা ও উস্তাদকে আমার পক্ষ থেকে ওমরাহ করানো হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনপদের জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে আল্লাহ যেন কবুল করেন এবং তাকে সেই তাওফিক দান করেন এ দোয়া করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কুরআনকে যারা সংরক্ষণ করেন, তাদের নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ আয়োজন নতুন একটি সূচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত কেউ আল-কুরআনকে মুছে ফেলতে পারবে না। এটি মহান আল্লাহর বাণী এবং তিনিই এর সংরক্ষক। কুরআনের শিক্ষার আলোকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কুরআনের শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য হাফেজদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যতে আলেমরা রাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবেন উল্লেখ করে তিনি এ আয়োজনের বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা পুরস্কার দেয়ার আর নেয়ার জন্য আজ এখানে আসিনি। আমরা এসেছি কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে এবং সমাজে কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি বলেন, হাফেজে কুরআনরা কুরআনকে ধারণ করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাঈ ইলাল্লাহর দায়িত্ব পালন করবেন এটাই তাদের প্রত্যাশা। মতামতের ক্ষেত্রে বিভেদ থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই এক ও অভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কুরআন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সেলিম উদ্দিন আরো বলেন, পাঁচ মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় আট শতাধিক কওমি ও আলিয়া মাদরাসার লক্ষাধিক হাফেজ অংশগ্রহণ করেছেন। কওমি, আলিয়া কিংবা অন্য কোনো নেসাব ও পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা করে একটি আদর্শভিত্তিক, ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








