চাকরি পেলেন খালি পায়ের বোলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক 
সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে রবি বোলার হান্টে ট্রায়াল দিতে খালি পায়ে এসেছিলেন ঝালকাঠির ছেলে নাহিদ হাওলাদার। যেখানে চাকরি করতেন সেখানেও এক দিনের বেতন কাটা গেছে। তার গল্প জেনে নাহিদের খেলার ব্যাবস্থা এবং একটি চাকরির ব্যাবস্থা করেন ফরচুন বরিশালের কর্ণধার এবং বর্তমানের বিসিবি পরিচালক মিজানুর রহমান।  
গণমাধ্যমকে মিজানুর জানিয়েছেন, ‘নাহিদ নামের ছেলেটা খালি পায়ে খুলনাতে গেছে এবং তার বেতনের থেকে ৬০০ টাকা নিয়ে যেতে হয়েছে। পুরো বিষয়টা আমি দেখেছি। একজন প্লেয়ার এতটা খারাপ অবস্থায় থাকতে পারে! আমাদের বরিশালের, যদিও তার বাড়ি ঝালকাঠিতে। আমি চেষ্টা করেছি খুঁজে বের করার এবং যা যা দরকার খেলার জন্য সেগুলো দিতে। ওকে একটা চাকরি দিয়েছি যেন সে খেলাটা চালিয়ে যেতে পারে। আমাদের যেমন ডি থ্রি আছে, সেই টুর্নামেন্টে যেন সে নেট বোলিং করতে পারে। আমরা যদি বিপিএল করি, সেখানেও যেন সে নেট বোলিং করতে পারে। যদি ভালো করে তাহলে তো তাকে মূল দলে আমি ইনশা আল্লাহ নিয়ে যাবো।’ মিজানুর আরো বলেছেন, ‘তার চাকরিটা এরকমই যে সে যখন খেলতে যাবে, তখন তার কোনো কাজ থাকবে না। আমাদের একটা গেইম প্রজেক্ট আছে সেখানে আমরা তাকে চাকরিটা দিয়েছি। অনেক ভালো ভালো সংগঠক রয়েছে বিসিবিতে। সবারই ফ্যাক্টরি আছে, চাকরি দেয়ার জায়গা আছে। আমরা যদি প্রতিভাগুলোকে খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে পারি। আমার ধারণা বাংলাদেশে অনেক ক্রিকেটার সৃষ্টি হবে। আমাদের পাইপলাইনটাও ধীরে ধীরে শক্ত হবে। আশা করছি নাহিদ হাওলাদার উত্তোরোত্তর সাফল্য পাক। সামনে বাংলাদেশ দলের পাইপলাইন আরো শক্ত হবে।’ 
চাকরি ও খেলার সরঞ্জাম পেয়ে নাহিদ হাওলাদার বলেছেন, ‘আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমরা সাধারণ ঘরের ছেলে তো এই অনুভূতিগুলো বোঝাতে পারব না যে আমার ভেতরে কী পরিমাণ আনন্দ হচ্ছে। আমাকে এক মাসের বেতন অগ্রিম দেয়া হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও খেলার যেসব সামগ্রী দরকার সবই দিয়েছে। আমি কখনো হাল ছাড়িনি। আমার মা বলে, ‘তুই পারবি। আমি বেঁচে থাকা অবস্থায় যেন দেখে যেতে পারি যে, আমাদের নাহিদ খেলছে টিভিতে।’ যাতে আমি ভালো করতে পারি। জাতীয় দলে যাতে যেতে পারি। সে জন্য আমার অভিভাবক পেয়ে গেছি, অসংখ্য ধন্যবাদ তাকে। আমার মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আরেকটা পূরণ হবে যে দিন জাতীয় দলে খেলতে পারব।’

Advertisement