
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। সিরিজের অপর প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি দিয়ে লিটন দাসের নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। তিন দলের এই প্রতিযোগিতায় প্রথমটি জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়াই প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের।
আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে-নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০২৭ সালের ২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজ। এই সিরিজের মধ্য দিয়ে দলের সমন্বয়, ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং বোলিং আক্রমণের কার্যকারিতা যাচাই করার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে এই সিরিজে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চেষ্টা থাকবে জিম্বাবুয়েরও। ফলে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লিটন দাস। তার সহকারী হিসেবে থাকছেন তৌহিদ হৃদয়। দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় রেখেছেন নির্বাচকেরা। নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান ও হৃদয়ের মতো ব্যাটারদের পাশাপাশি দলে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মাহেদী। পেস বিভাগে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা তাসকিন, মোস্তাফিজ ও হাসান মাহমুদ। তাসকিনের গতি, মোস্তাফিজের কাটার এবং হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের স্পিন মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ওয়ানডে সিরিজের জন্য স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন আলিস আল ইসলাম। রহস্যময় স্পিনের জন্য পরিচিত এই অফস্পিনার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেট লিগে ভালো পারফম্যান্সের সুবাদেই জাতীয় দলে তিনি। একাদশে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করার পাশাপাশি দলের স্পিন বিভাগেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন তিনি। ইনজুরির কারণে বিশ্রামে থাকায় এই সিরিজেও নেই দলের তরুণ তারকা পেস বোলার নাহিদ রানা। বাদ পরেছেন পারভেজ হোসেন ইমনও।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে লিটন, শান্ত, হৃদয় ও সৌম্যর। টপঅর্ডার থেকে ভালো সূচনা পেলে মাঝের ওভারে রান তোলার চাপ কমবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়ার পাশাপাশি লক্ষ্য তাড়া করার সামর্থ্যও এই ম্যাচে যাচাই করতে চাইবে বাংলাদেশ। সবশেষ বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলেছে চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে ৭ উইকেটে জিতলেও স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই টাইগারদের।
ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তিন দলের প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল অন্য দুই দলের মুখোমুখি হবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল। সে কারণে প্রথম ম্যাচের জয়টি ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। তাই লক্ষ্য পরিষ্কার- ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, বোলিংয়ে শৃঙ্খলা এবং ফিল্ডিংয়ে ভুল কমিয়ে জয় তুলে নেয়া।
অন্য দিকে অধিনায়ক সিকান্দর রাজা, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেলর, বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেটের মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল জিম্বাবুয়ে। বিশেষ করে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে রাজার। বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে তার অভিজ্ঞতা। জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণে বড় ভরসা ব্লেসিং মুজারাবানি। তার উচ্চতা ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলতে চাইবে দলটি। কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন ব্র্যাড ইভান্সও। স্পিন বিভাগে রয়েছেন রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। নতুন বলে উইকেট তুলে নেয়া এবং মাঝের ওভারে রান আটকে রাখাই হবে তাদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সম্প্রতি শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে জিম্বাবুয়ে। সিরিজে অসিদের কাছে হারলেও নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস জিম্বাবুয়ে।
আবুধাবি স্টেডিয়ামের উইকেটে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই হওয়ার প্রত্যাশা হতে পারে। নতুন বলে পেসাররা কিছুটা সহায়তা পেতে পারেন। তবে উইকেটে থিতু হতে পারলে ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলার সুযোগ থাকবে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে স্পিনারদের ভূমিকাও। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রথম ১০ ওভারে উইকেট ধরে রাখা জরুরি। শুরুতেই একাধিক উইকেট হারালে মাঝের ওভারে চাপ বাড়বে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দিতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়া সম্ভব।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক দিনের ক্রিকেট এখন পর্যন্ত ৮৪টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে জয়ের দিক থেকে বেশ এগিয়ে লিটন দাসের দল। ৫২ ম্যাচে জয়ের বিপরীতে ৩২টিতে পরাজয় দেখেছে টাইগাররা। আর সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম দু’টিতে হারলেও শেষটি বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে সেই ধারা ধরে রাখায় বড় লক্ষ্য লিটন দাসের দলের।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








