ভারত থেকে এলো রেলের ২০০ ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালান

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Advertisement

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে ভারত থেকে এসেছে ২০০ ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের প্রথম চালানের ১৮টি কোচ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কোচবাহী রেকটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। নতুন এই কোচগুলো যুক্ত হলে রেলের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ট্র্রেন কেনার আওতায় ভারতের রাইটস লিমিটেড এসব কোচ সরবরাহ করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত ফ্যাক্টরি থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ১২ অক্টোবর রাতে প্রথম চালানের কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।
শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা কোচগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের পক্ষে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ, পাকশীর আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০০টি কোচের মধ্যে প্রথম চালানের ১৮টি এসে পৌঁছেছে। এসব কোচ যুক্ত হলে পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীসেবা বাড়বে এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, ১৮টি কোচের মধ্যে দু’টি এসি স্লিপার, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ এবং দু’টি পাওয়ার কার রয়েছে। কোচগুলোর প্রাথমিক চলাচল পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেকটি চলার সময় তার কাছে কোচগুলোর মান বেশ ভালো মনে হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক শব্দ পাওয়া যায়নি। 
জানা গেছে, দর্শনা বন্দরে কোচ খালাসের কার্যক্রম শেষে সেগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডিপ্রসেসিং, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যান এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কোচগুলো রেলের বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরো আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে।