
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের প্রায় ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি পুশইনের ঘটনায় এক হাজার ২৭৫ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে জোরপূর্বক লোক প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, সংযম ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি। এ ধরনের অপচেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরো জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মাহবুব মুর্শেদ রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় যেকোনো পর্যায়ে অবৈধ চাপ বা অপতৎপরতা মোকাবেলায় বিজিবি কোনো আপস করবে না। প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা আরো কার্যকর করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, দিবা ও রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। একই সাথে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান : বিজিবির পরিচালক জানান সীমান্তে পুশইন প্রতিহত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানবিরোধী অভিযানও জোরদার করেছে বিজিবি। চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং তিন হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রায় এক হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় দুই হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনসামগ্রী। এসব অভিযান দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং বৈধ বাণিজ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক : মাদকদ্রব্য প্রতিরোধকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রায় ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, প্রায় ১২ কেজি হেরোইন ও কোকেন, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, প্রায় ২৪ হাজার বোতল ফেনসিডিল এবং প্রায় এক লাখ বোতল বিদেশী মদ জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, মাদকের প্রতিটি চালানের সাথে তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের শান্তি ও নিরাপত্তা জড়িত। এ উপলব্ধি থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








