
আনাদোলু এজেন্সি
গাজা উপত্যকায় ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া তীব্র খাদ্যাভাব ও অপুষ্টির কবলে পড়ে অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনির জীবনাবসান ঘটেছে। এর মধ্যে ১৫৭ জনই শিশু। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান বিবরণীতে এই ভয়াবহ চিত্রে আলোকপাত করা হয়।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, পুষ্টিহীনতায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে ১৮৯ জন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০.৫ শতাংশ। উপত্যকাটিতে খাদ্যঘাটতি এমন মারাত্মক রূপ নিয়েছে যে, চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে নিপতিত হতে পারেন। স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে জানা যায়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে জাতিসঙ্ঘ গাজা উপত্যকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দেয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং সীমান্ত অবরোধের পর ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে একের পর এক বাধা সৃষ্টি করায় পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মানবতাবাদী ও অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ক্ষুধাকে একটি অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করেছে। বিশেষত ২০২৫ সালের মার্চে সীমান্ত পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দিলে হাজার হাজার ত্রাণবাহী যান আটকা পড়ে। ফলে উত্তর গাজার অধিবাসীরা তীব্র খাদ্যাভাবে পশুখাদ্য ও বুনো লতাপাতা খেতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে ৮১ দিনের টানা রুদ্ধশ্বাস ব্যবস্থার পর ২০২৫ সালের মে মাসের শেষভাগে মাত্র ৮৭টি ত্রাণের গাড়ি প্রবেশের অনুমতি পেলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই প্রবাহ ছিল অত্যন্ত সীমিত। চুক্তির শর্ত ভেঙে মোট বরাদ্দের মাত্র ৩৪ শতাংশ ত্রাণসামগ্রী ভেতরে যেতে পেরেছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে পাঁচ বছরের কম বয়সী এক লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি শিশুর মাঝে গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ১৮ শতাংশ শিশুর অবস্থা এতটাই সঙ্কটাপন্ন যে তাদের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া ১২.২ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতার দরুন স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি হারিয়ে খর্বকায় হয়ে পড়ছে। শিশুমৃত্যুর হারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে; ২০২২ সালে প্রতি হাজারে যেখানে শিশুমৃত্যু ছিল ১৩.৬, ২০২৫ সালে তা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪-এ। প্রাক্কলন করা হচ্ছে যে, ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার ২০০ শিশুর জরুরি পুষ্টি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেবে। পুষ্টির মারাত্মক সঙ্কট প্রভাব ফেলছে গর্ভবতী নারী ও প্রসূতিদের ওপর। যুদ্ধের পূর্বে প্রসূতিদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার হার ৪১ শতাংশ থাকলেও চলতি ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ শতাংশে। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় চার হাজার প্রসূতি গর্ভপাত বা গর্ভস্থ সন্তান হারানোর ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন, যা বিগত ছয় মাসের তুলনায় তিনগুণ বেশি। বর্তমানে গাজায় প্রতি তিনটি গর্ভধারণের মধ্যে একটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ধরা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্যের সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসঙ্ঘ এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোকে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, গর্ভবতী ও বয়স্কদের মাঝে ওষুধ, পুষ্টি উপাদান ও জীবনরক্ষাকারী খাদ্য বিতরণ নিরবচ্ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








