
আলজাজিরা
ভারতে আদানি গ্রুপের প্রস্তাবিত একটি বিশাল খনি প্রকল্পের জন্য স্থানীয় আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। ওড়িষ্যার কোরাপুট জেলায় বক্সাইট খনি স্থাপনের উদ্দেশ্যে শত শত আদিবাসী অধিবাসীর ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপছাপ ব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি অনেক আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি কিংবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত শয্যাশায়ী রোগীর টিপছাপ ব্যবহার করেও এই ভুয়া সম্মতির নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কলিঙ্গ অ্যালুমিনা লিমিটেড’ ২৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই খনি প্রকল্পটি পরিচালনা করছে। দেশটির বিদ্যমান আইন অনুসারে, কোনো আদিবাসী এলাকা বা বনভূমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণের জন্য স্থানীয় গ্রামসভার অন্তত ৫০ শতাংশ বাসিন্দার লিখিত সম্মতি নেয়া বাধ্যতামূলক।
সরকারি নথিপত্রে দেখানো হয়েছে যে, গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি হস্তান্তরে রাজি হয়েছেন। তবে বাস্তবে এই চিত্র সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সম্মতির কাগজপত্রে ব্যবহৃত অধিকাংশ সই ও টিপছাপ জাল। বলদা গ্রামের এক ক্ষুব্ধ অধিবাসী জানান, তার মা গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুবরণ করেন; অথচ তার মৃত্যুর আট মাস পর আয়োজিত বৈঠকে নাকি তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে সই প্রদান করেছেন। একইভাবে বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী ব্যক্তিরও ভুয়া টিপছাপ তৈরি করে কাগজে বসানো হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, প্রশাসনিক অন্য একটি সুবিধার কথা বলে সাদা কাগজে সই সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে তা খনি প্রকল্পের সম্মতিপত্র হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী চক্র। যদিও সংশ্লিষ্ট দুই গ্রামের প্রধানরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো বৈধ বৈঠক বা সই সংগ্রহের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। বিধিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে অতি দ্রুততার সাথে আদানির প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বনভূমির স্বত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি নিজেদের পবিত্র পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিষয়ে আলজাজিরা কর্তৃপক্ষ আদানি গ্রুপ ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হলেও পূর্বপুরুষের ভূখণ্ড ও পবিত্র বনাঞ্চল আদানির হাতে তুলে না দেয়ার বিষয়ে নিজেদের দঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন আদিবাসীরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








