ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সাথে মাঠে নামছে ইয়েলো ভেস্ট ও ট্রেড ইউনিয়ন

 এএফপি 
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আয়োজিত বৈঠক কোনো সুরাহা ছাড়া ভেঙে যাওয়ার পর আন্দোলনে বহাল থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশটির উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের এই ক্ষোভকে আরো বেগবান করতে এবং জীবনযাত্রার সঙ্কট মোকাবেলায় আজ শনিবার দেশব্যাপী গণবিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঐতিহাসিক ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন।
চলতি আন্দোলন সূচনার পর থেকে শিক্ষা প্রশাসন ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। গত পরশু সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রের সাথে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৈঠকটিও ফলপ্রসূ না হওয়ায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন ছাত্রনেতারা। হাইস্কুল স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (ইউএসএল) পক্ষ থেকে মারিয়াস মেসনিল স্পষ্টভাবে জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবিগুলো গুরুত্ব না পাওয়ায় তারা আগামীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সচিবালয়ের শরণাপন্ন হবেন। ‘লে লিসোঁ!’ নামের অপর ছাত্রসংগঠনটিও সমভাবাপন্ন অবস্থান নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে থাকার ডাক দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল আপত্তি বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত বেহাল দশা, ভর্তি প্রক্রিয়া ‘পারকৌর্সুপ’-এর জটিলতা ও সময়সূচি সংস্কার ঘিরে। তবে সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের চাহিদা পূরণে গতি আনা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে দাবি করেন, প্রতিশ্রুত তিন হাজার বিকল্প শিক্ষকের মধ্যে ইতোমধ্যে দুই হাজার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং পারকৌর্সুপ ব্যবস্থায় পরিকল্পিত পরিবর্তন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনুকূলেই যাবে।
এ দিকে আজ ফ্রান্সজুড়ে ন্যূনাপক্ষে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির পুলিশ। প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন সিজিটি-এর প্রধান সোফি বিনে মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের আকাশচুম্বী ক্ষোভই এই বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে দেশের বড় করপোরেশন ও ধনকুবেরদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়িয়ে তা শিক্ষা ও সরকারি জনসেবা খাতে বিনিয়োগের দাবি জানান। ২০১৮ সালে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে সূচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ গ্রুপটি আজকের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহস্রাধিক একক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু কর্মী, কৃষক জোট, রাইড-শেয়ারিং চালক ও অন্য বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনও শিক্ষার্থীদের সমর্থনের বার্তা দিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের তরফ থেকে কঠোর সুর প্রকাশ পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ গতকাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, বিক্ষোভ যদি উগ্র রূপ ধারণ করে তবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্টান গ্রেনেড-সহ বিবিধ ‘মধ্যবর্তী অস্ত্র’ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যদিও আগে এক আন্দোলনকারীর হাত মারাত্মক জখম হওয়ার পর এই গ্রেনেডের প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে হিংসাত্মক রূপ দেয়ার প্রচেষ্টাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন।

Advertisement