
বিবিসি
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় শ্রেণীর জন্য ধর্মীয় প্রতীকযুক্ত পোশাক পরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আজারবাইজান। এই সিদ্ধান্তের জের ধরে দেশটির একাধিক অঞ্চলে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন পোশাক বিধিমালা চালুর পর থেকে রাজধানী বাকুসহ ইরান সীমান্তবর্তী মাসাল্লি ও জলিলাবাদের মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে অসন্তোষ দৃশ্যমান হয়। নেভি ব্লু রঙের হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে না দেয়ার দৃশ্য সামাজিকমাধ্যমে উন্মুক্ত হলে অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকরা রাজপথে নামেন। বাকুর প্রান্তিক এক বিদ্যালয়ের সম্মুখে আন্দোলনকারীদের ‘হিজাব শিক্ষার প্রতিবন্ধক নয়’ লেখা ব্যানার হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ এবং প্রায় এক কোটি পাঁচ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই রাষ্ট্রটিতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য গণবিক্ষোভ অত্যন্ত অপ্রতুল। দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান পদে ২০০৩ সাল থেকে বহাল আছেন প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, যার প্রশাসন বিরোধীদের দমনে বেশ কঠোর। সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। আইনভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে তাদের আটক করা হলেও একাধিক আন্দোলনকারী অভিভাবক ও অনলাইন অধিকারকর্মীকে তুলে নেয়া কিংবা গুম করার অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভ দমন জোরদার করতে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিভিপিএন প্রয়োগ করা ছাড়া ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহারের পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আজারবাইজান সাংবিধানিকভাবে ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ অধিবাসী শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তাদের ভাষাগত ও সামাজিক রীতি প্রতিবেশী তুরস্কের অনুগামী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








