
ডন
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রীয় প্রশাসনের তরফ থেকে জরুরি অবস্থা জারি ও গভর্নরের শাসন বলবৎকরণের প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খানের আবেদনের প্রাথমিক শুনানির দিন আগামী সোমবার নির্ধারণ করেছে পেশোয়ার হাইকোর্ট। সন্ত্রাস দমনে প্রাদেশিক প্রশাসনের উদাসীনতার অজুহাত দেখিয়ে গত রোববারে প্রদেশটিতে জরুরি ব্যবস্থা ও গভর্নরের শাসন চাপিয়ে দেয় কেন্দ্র সরকার। কারাবন্দী দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে পরিকল্পিত লংমার্চের ঘোষণা এবং পরবর্তীতে সরকারের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনা বিফলে যাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিরোধী শিবির এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচারালয়সহ সর্বস্তরে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার পিটিআই প্রধানের এই রিট আবেদনটি জমা পড়ে। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন ব্যারিস্টার সমীর খোসা, সালমান আকরাম রাজা, আলী জামান, সরদার হাসিব আহমদ ও জয়নাব শহীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশিষ্ট আইনজীবীদের একটি দল। তবে বেঞ্চের বিচারপতির নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। আবেদনে খাইবার পাখতুনখাওয়ার জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনের মতো সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক, আইনগত এখতিয়ারবহির্ভূত, বিদ্বেষপ্রসূত এবং তথ্য-প্রমাণহীন আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আর্জি জানিয়েছেন গওহর। সংবিধানের ১৯৯ ধারা অনুযায়ী করা এই রিটে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, প্রাদেশিক প্রদেশ, গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি, স্পিকার ও স্বরাষ্ট্র সচিবসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। এ ছাড়া গভর্নরের শাসন জারির পর অপসারণ করা মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে। ১১ অক্টোবরের ওই নির্দেশনায় প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েন এবং গঠিত বিভিন্ন পর্ষদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং সংবিধানের ১৩০ ধারা লঙ্ঘন করে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে মন্ত্রিসভাসহ অন্যায়ভাবে অপসারণ ও আটকের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পর গভর্নর কুন্দির সহায়তায় ১১ সদস্যের একটি টেকনোক্র্যাট উপদেষ্টা পরিষদ বসিয়েছে কেন্দ্র।
রিটে আরো আবেদন জানানো হয়েছে যে, ২৩২(১) ধারার বিধান লঙ্ঘন করে প্রাদেশিক বিধানসভার পূর্বানুমোদন ছাড়াই এর আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বাতিল ও অসাংবিধানিক। সংসদ যাতে খাইবার পাখতুনখাওয়াসংক্রান্ত কোনো আইন প্রণয়নে হাত না দেয়, সে বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। গভর্নরের গড়া উপদেষ্টা পরিষদ, ১২ জেলায় গঠিত এরিয়া ডেভেলপমেন্ট সচিবালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অপসারণের মতো সব নির্বাহী আদেশ ও বিজ্ঞপ্তি স্থায়ীভাবে রহিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। ডেরাইসমাইল খান, টাঙ্ক, লাকি মারওয়াত, বান্নু, বাজাউর, মোহমান্দ, খাইবার, কুরাম, ওরাকজাই, উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সুশাসন ও নিরাপত্তা রক্ষার নামে এসব সচিবালয় খোলা হয়েছিল।
আফ্রিদির সরকারের চাহিদা ছাড়া সেনা মোতায়েনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান। গভর্নর কুন্দির তৈরি করা রিপোর্ট এবং মন্ত্রিপরিষদের সারসংক্ষেপ আদালতে প্রদর্শনের পাশাপাশি বন্দী মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য নেতাদের দ্রুত মুক্তির নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার জিগির তুলে নির্বাচিত সংসদকে পাশ কাটানোকে ফেডারেল কাঠামো ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, দেশ বা খাইবার পাখতুনখাওয়ায় যুদ্ধ কিংবা বাহ্যিক কোনো আগ্রাসনের বাস্তব পরিস্থিতি নেই। বেলুচিস্তানে তুলনামূলক বেশি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও সেখানে জরুরি অবস্থা জারি না করার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, কেপিতে নিরাপত্তা অজুহাতটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের চরম সঙ্কটেও দেশে এমন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি বলে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।
পাশাপাশি ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) পক্ষ থেকেও একই ইস্যুতে মহসিন দাওয়ার ও বুশরা গওহরের করা অপর একটি রিট আবেদনের জন্যও আগামী সোমবার শুনানির দিন রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং এর পেছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
এ দিকে দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের মামলার বিষয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন ব্যারিস্টার গওহর। বৃহস্পতিবার বিচারপতি আরবাব মুহাম্মদ তাহির মামলার শুনানি করেন। পিটিআই প্রধান আদালতকে জানান যে ওই অ্যাকাউন্টের মালিকানা তাদের দলের নয়। তবে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে লিখিত বক্তব্য দিতে বাড়তি সময় চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন। অন্য দিকে ২০১৪ সালের ধর্না সম্পর্কিত মামলায় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় পিটিআই প্রতিষ্ঠাতাসহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট শায়স্তা কুন্দি। আদিয়ালা জেলে বন্দী থাকায় তাকে আদালতে আনা সম্ভব না হওয়ায় আগামী ২৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








