
চট্টগ্রাম ব্যুরো
সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সবার শহর। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নগরীকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃহস্পতিবার মেয়র এসব কথা বলেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আর্থিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগরীর ১৬টি থানার অন্তর্গত ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ প্রতিটি মণ্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জে এম সেন হল পূজামণ্ডপকে পাঁচ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পূজা উদ্যাপন পরিষদের জামালখানস্থ কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি করপোরেশনের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরীতে সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও নির্বিঘেœ উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। তাই নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, একটি সেফ সিটি গড়ে তোলার অর্থ শুধু অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়; বরং এমন একটি নগরী তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। এ জন্য নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়র আরো বলেন, নগরীর সব ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবি ও প্রয়োজনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন আন্তরিক। নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে। ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
মেয়র বলেন, নগরীর উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক অর্জন নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধেŸ ওঠে নগরীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো: আশরাফুল আমিন, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সহসভাপতি বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, অয়ন ধরসহ মহানগরীর বিভিন্ন থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








