
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। তিনি বলেন, একই সময়ে বিএনপিকে ঘিরে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, অপতথ্য ও গুজব সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে মানুষ এখনো গুরুত্বপূর্ণ খবরের সত্যতা যাচাই করতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার ঘটেছে, তবে এর সাথে দায়িত্বহীন আচরণও বেড়েছে। এর বিপরীতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এখনো মানুষের আস্থা ধরে রেখেছে। মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো খবর দেখার পর সেটি সঠিক কি না, তা যাচাই করতে টেলিভিশন ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের খবরের সাথে মিলিয়ে দেখে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবেলায় সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কখনো কখনো বড় সংবাদমাধ্যমও যাচাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রচারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সালেহ শিবলী বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবেলায় একটি কার্যকর আইন থাকা প্রয়োজন। তবে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে না জানা অনেক মানুষও অপতথ্যের শিকার হন। তারা নিজেরা এর প্রতিবাদ জানাতে বা প্রতিকার চাইতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ডিআরইউর নতুন সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা জরুরি। মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মধ্যদিয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোই একটি সংগঠনের সৌন্দর্য। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শকে সমর্থন করা সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। তবে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সালেহ শিবলী আরো বলেন, দেশে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্ম, মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। সব নাগরিকের সমান অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ৪০০টি আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই বাছাই করে ৪০ জনকে নতুন সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা সদস্য হয়েছেন, কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়। তিনি বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন। সংগঠনটি সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক তৈরি হলে আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি। সংগঠনের নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা মেনে চলার মধ্যদিয়েই ডিআরইউ তার মর্যাদা ধরে রেখেছে।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এই সংগঠন সাংবাদিকদের জন্য ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফরম। নতুন সদস্যদের এই ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখার পাশাপাশি পেশাদারত্বের সাথে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে হবে।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দফতর সম্পাদক মো: রাশিম (রাশিম মোল্লা), ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো: আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো: আব্দুল আলীম।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








