শেকৃবির গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা স্থগিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে (বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত) সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক, শিার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ পরিকল্পনা স্থগিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। একই সাথে ওই মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প থেকে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯২০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় কৃষিশিার উচ্চতর প্রতিষ্ঠান ‘দ্য বেঙ্গল এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫/১৯১৯-২০ নম্বর মামলার মাধ্যমে ২৯৮ দশমিক ৪৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠও ওই জমির অন্তর্ভুক্ত। পরে স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের আমলে শিক-শিার্থীদের মতামত উপো করে প্রতিষ্ঠানটির নামে অধিগ্রহণ করা প্রায় ২৮ দশমিক ১৩ একর জমি সরকারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা শুরু হয় বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের স্থাপত্যিক পরিবেশ সংরণ কেবল নান্দনিকতা বা আবেগের বিষয় নয়; এর সাথে বিদ্যমান আইন, ভবন নির্মাণবিধি ও নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রতœসম্পদ আইন, ১৯৬৮ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (বিএনবিসি ২০২০) ১.১৮ অনুচ্ছেদে ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা ও এলাকা সংরণের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ ২০২২-২০৩৫)-এ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, আশপাশের নতুন নির্মাণ, ভবনের উচ্চতা ও সংরণ বলয়সংক্রান্ত বিশেষ শর্ত রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রস্তাবিত সচিবালয় নির্মাণের েেত্র সংশ্লিষ্ট আইন, ড্যাপের প্রযোজ্য বিধান, ভূমির ব্যবহার, ভবনের উচ্চতা, দৃশ্যগত প্রভাব ও ঐতিহ্য সংরণের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা জনসমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, শেরেবাংলা নগরের ঐতিহাসিক জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বুকে একটি নৈসর্গিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এর পাশেই সবুজে ঘেরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেন শহরের মধ্যে একটি সবুজ গ্রাম। এ দুই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মাঝখানে অবস্থিত বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয়ের মতো বড় স্থাপনা নির্মিত হলে এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য তিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মতে, বড় স্থাপনা নির্মাণের ফলে উন্মুক্ত সবুজ প্রাঙ্গণ ও জনবান্ধব পরিবেশ সঙ্কুুচিত হতে পারে। জিয়া উদ্যানে অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলের পরিবেশও তিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীতে কংক্রিট ও পিচঢালা পৃষ্ঠের পরিমাণ বাড়লে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরণ এবং নগরের নান্দনিকতা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি, দীর্ঘ অপোর পর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে শিা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এমন সময়ে সেখানে সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার খবর শিক-শিার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ােভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ হাজার অ্যালামনাই, শিক, শিার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বার্থও এ পরিকল্পনার সাথে জড়িত।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত উপো করে এবং পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়াই গবেষণামূলক একটি শিাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সমাধিস্থলের পাশে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না।
এ অবস্থায় দেশের কৃষি উন্নয়ন, উচ্চশিা ও পরিবেশ সংরণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। একই সাথে গবেষণা মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিা, গবেষণা ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করে দেশের কৃষি উন্নয়ন এবং শেরেবাংলা নগরের নান্দনিক পরিবেশ রায় প্রয়োজনীয় পদপে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

Advertisement