
সংসদ প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এর আগে ভবনের মূল স্থাপত্যশৈলী, পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরি, ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) অ্যানিমেশন প্রস্তুত এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা অন্য কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়ে মতামত প্রদান সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জাতীয় সংসদ ভবন ও সংসদ এলাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো, সিস্টেম লস হ্রাস এবং সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য উপযুক্ত ফাঁকা জায়গার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত স্থানগুলোতে প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা থ্রিডি অ্যানিমেশনের মাধ্যমে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়। আগামী সভায় এসব উপকরণ কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যগত বৈশিষ্ট্য সংরণের বিষয়টি সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুইস আই কানের নকশায় নির্মিত এ ভবনের মূল স্থাপত্যশৈলীর যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়। একই সাথে ভবন এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্য প্রভাবও নিবিড়ভাবে পরীা করার কথা বলা হয়। এ ল্েয বুয়েট অথবা অন্য কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারিগরি ও পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা।
সোলার প্যানেল স্থাপনের সার্বিক সম্ভাব্যতা পরীা-নিরীা, যাচাই-বাছাই এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য মো: আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও মারদিয়া মমতাজকে নিয়ে গঠিত এ উপকমিটি প্রস্তাবিত উদ্যোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করবে।
উপকমিটির কার্যক্রমে সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব (এএস), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রতিনিধি, স্থাপত্য অধিদফতরের নির্বাহী স্থপতি এবং গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলীরা সম্পৃক্ত থাকবেন।
এদিকে, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময় ছাড়া অন্য সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখলে কী ধরনের তি হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ প্রতিবেদন উপকমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা বিবেচনার পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখার ফলে অবকাঠামো বা সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় কোনো তির আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পাবে।
তবে এমপি হোস্টেলের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের চলমান কার্যক্রম থেকে নিজেদের দায়ভার পৃথক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন সম্পন্ন করে এমপি হোস্টেলের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের যে কার্যক্রম চলছে, সে বিষয়ে এ কমিটি কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় কমিটির সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো: নাহিদ ইসলাম এমপি, মো: আশরাফ উদ্দিন এমপি, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপি, মো: সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও মারদিয়া মমতাজ এমপি অংশ নেন।
এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ডিপিডিসির প্রতিনিধি, গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








